যে রেকর্ড ভুলে যেতে চাইবেন রোহিত শর্মা

রোহিত শর্মার নামের পাশে এখন যোগ হলো ২৭৬ ইনিংসে ১৯টি শূন্য। আইপিএলের ইতিহাসে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে যৌথভাবে তিনি এখন শীর্ষে।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রোহিত শর্মার জন্য ২০২৬ সালের আসরটি শেষ হলো এক চরম ট্র্যাজেডিতে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পরাজয়ের দিনে এক লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসালেন হিটম্যান। আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ‘ডাক’-এর শিকার হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত চূড়ায় এখন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের পাশে তাঁর নাম।

মুম্বাইয়ের ঘরের মাঠে ২০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল দল। কিন্তু জোফরা আর্চারের একটি দুর্দান্ত আউটসুইঙ্গার রোহিতের ব্যাটের কোণা ছুঁয়ে জমা হয় উইকেটরক্ষক ধ্রুব জুরেলের গ্লাভসে। খাতা খোলার আগেই রোহিতের এই বিদায় স্টেডিয়ামজুড়ে এক স্তব্ধতা নিয়ে আসে।

এই আউটের পর রোহিত শর্মার নামের পাশে এখন যোগ হলো ২৭৬ ইনিংসে ১৯টি শূন্য। আইপিএলের ইতিহাসে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে যৌথভাবে তিনি এখন শীর্ষে। পেছনে ফেলে এসেছেন দীনেশ কার্তিক ও সুনীল নারিনেরদের। রেকর্ডের খাতাটা যেন রোহিতের অবিস্মরণীয় আইপিএল ক্যারিয়ারের মাঝে এক ফোঁটা কালির দাগ হয়ে রইল।

অথচ আইপিএলের আঙিনায় রোহিত শর্মা এক জীবন্ত কিংবদন্তি। অধিনায়ক হিসেবে যেমন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে এনে দিয়েছেন পাঁচটি ট্রফি, তেমনি ব্যাটার হিসেবেও করেছেন ৭০০০-এর বেশি রান। রানের পাহাড়ে চড়া সেই চওড়া ব্যাটটাই আজ এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের বোঝায় ভারী হয়ে উঠল।

ব্যক্তিগতভাবে চোটের কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করলেও, এই মৌসুমে রোহিতের ব্যাট একদম শান্ত ছিল না। নয় ম্যাচে ৩৫-এর বেশি গড় আর ১৫৭ স্ট্রাইকরেটে তিনি করেছেন ২৮৩ রান। কিন্তু এই রানও শেষ পর্যন্ত ঢাকা দিতে পারল না তাঁর শেষ ম্যাচের সেই শূন্যতাকে।

রোহিতের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। নামি খেলোয়াড়দের অফফর্মের মাশুল দিতে হয়েছে পুরো দলকে। ফলে পাঁচবারের শিরোপাজয়ীদের এবারের আইপিএল যাত্রা শেষ করতে হলো পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে থেকে, যা ভক্তদের জন্য ভীষণ বেদনার।

ক্রিকেট চিরকালই এক পরম নিষ্ঠুর খেলা, যেখানে সাফল্যের পাশে ব্যর্থতার গল্পও লেখা হয় সমান্তরালে। ১৯টি ডাকের এই লজ্জা হয়তো রোহিতের নামের পাশে থাকবে। তবে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ও অধিনায়ক হিসেবে তাঁর গৌরবগাথা কোনো মলিন রেকর্ডের কাছে কখনোই ম্লান হওয়ার নয়।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link