বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন কেবলই ভাঙনের শব্দ। আর সেখানে বারুদ ঢেলেছেন স্বয়ং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ। সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপরই দায় চাপাচ্ছেন তিনি। তারা নাকি দেশের জন্য নয়, খেলছেন স্রেফ নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করতে!
সিলেটের মাঠে ৭৮ রানে ম্যাচটি হাতছাড়া হতেই পুরো দলকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন টিম ম্যানেজার নাভিদ চিমা ও কোচ সরফরাজ। সেখানেই আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সাবেক এই কাপ্তান।
বিশেষ করে ব্যাটারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সরফরাজ সাফ জানান, ‘নিজেদের স্বার্থ ভুলে আগে দলের জন্য খেলতে শিখুন।’ তার সোজা কথা – ব্যক্তিগত গড়ের খাতা ভারী করে হয়তো দলে টিকে থাকা যায়, কিন্তু ম্যাচ জেতা যায় না। যেখানে বাকি দুনিয়ার দলগুলো রকেট গতিতে এগোচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট দিন দিন তলিয়ে যাচ্ছে অতল গহ্বরে।

অথচ সুযোগ কিন্তু একদম ছিল না, তা নয়। ঢাকা টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬৩ রানেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল দল। এরপর সিলেটে ৪৩৭ রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে ৩৫৮ পর্যন্ত গেলেও, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
পুরো সিরিজে পাকিস্তানের প্রাপ্তি বলতে কেবল নবাগত আজান আওয়াইসের প্রথম টেস্টের সেই সেঞ্চুরি। আর সিলেটের দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৯৪ রানের একার লড়াই।কিন্তু দলের অন্যান্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়েরা ছিলেন আঠেরো আনাই ব্যর্থ।
ঠিক উল্টো রূপ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ লিটন দাস আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসা দুটো দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল। আর বল হাতে শেষ ইনিংসে অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলামের বিষাক্ত ছয় উইকেটই গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানের প্রতিরোধ।

আসলে সরফরাজের এই বিস্ফোরণ কেবল একটা হারের ক্ষোভ নয়, বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের ভেতরের আসল রোগটা ধরিয়ে দেওয়া। যে দলের ব্যাটাররা ম্যাচ জেতানোর চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্মান বাঁচাতে বেশি ব্যস্ত, সরফরাজের ভাষায় সেই দল তো পেছনের দিকেই হাঁটবে। বাংলাদেশ কেবল সিরিজ জেতেনি, পাকিস্তানের এই স্বার্থপর ক্রিকেটের অহংকারটাও গুঁড়িয়ে দিল।











