আধুনিক ক্রিকেটে বৈভব যুগের সূচনা

বিহার থেকে উঠে আসা রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার বৈভব সুরিয়াভানশি এবার যা করলেন, তা এককথায় রূপকথা। আইপিএলের মহাব্যস্ত আর চাপভরা মঞ্চে এই কিশোর খেললেন এক বিধ্বংসী অবতার হয়ে।

বয়স মাত্র ১৫, অথচ ২২ গজের ক্রিজে সে যেন এক মূর্তিমান ঝড়। বিহার থেকে ওঠে আসা বৈভব সুরিয়াভানশি এবার যা করলেন, তা এককথায় রূপকথা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মহাব্যস্ত আর চাপভরা মঞ্চে এই কিশোর খেললেন এক বিধ্বংসী অবতার হয়ে।

১৬টি ম্যাচে মাঠে নেমে তাঁর উইকেটের চারপাশ থেকে ছুটে এসেছে মোট ৭৭৬ রান। যেখানে ব্যাটিং গড় ছিল ৪৮.৫ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল আকাশচুম্বী ২৩৮! পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৬৩টি চারের পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন রেকর্ড ৭২টি ছক্কা।

জাসপ্রিত বুমরাহ কি জশ হ্যাজেলউড! কোনো বিশ্বসেরা বোলারই যেন সুরিয়াভানশির ব্যাটের ধোপে টেকেনি। প্রতি ২.৪ বলে একটি করে বাউন্ডারি মেরে প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাসকে বালিচাপা দিয়েছেন এই কিশোর।

​প্রথম রাউন্ড ছাড়িয়ে বৈভবের ব্যাটের আসল তেজ দেখা গেছে নকআউটের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে। লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে মাত্র ৩৮ বলে ৯৩ রানের এক খুনে ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে খেলেন ২৯ বলে ৯৭ রানের আরেক টর্নেডো ইনিংস। এর ঠিক দুদিন পর, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাটের বিরুদ্ধে করেন ৪৭ বলে ৯৬ রান।

তিনটি ম্যাচেই বড্ড কাছে গিয়েও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া হয়নি তার। তবে কেবল ব্যক্তিগত রেকর্ডের খেরোখাতায় সেঞ্চুরি না লেখা হলেও, দলের প্রয়োজনে খেলা এই বিধ্বংসী ইনিংসগুলো সেঞ্চুরির চেয়েও বেশি মূল্যবান।

আধুনিক ক্রিকেটের ইমপ্যাক্ট মডেল অনুযায়ী, বৈভবের খেলা ১৬টি ম্যাচের মধ্যে সাতটি ম্যাচই ছিল অতিমানবীয়। ডেথ ওভারে তার স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ৩২৫! এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর টুর্নামেন্টের ‘ইমার্জিং ক্রিকেটার’ এর পুরস্কারটি যে তার হাতেই উঠছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

​মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সুরিয়াভানশি ক্রিকেট বিশ্বকে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু আইপিএল কাঁপাতে আসেননি, এসেছেন ক্রিকেট সাম্রাজ্য শাসন করতে। ভারতের নীল জার্সিতে তার ভবিষ্যৎ যে কতটা উজ্জ্বল আর দীপ্তিময়, ২০২৬ সালের এই আইপিএল সিজনটি কেবল তার একটি ছোট্ট ট্রেলার মাত্র। মহাকাব্যের তো সবে শুরু!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link