অভিষেক ম্যাচ, মাথায় ঘুরছে বাড়তি চাপ। তবে আরাফাত মিনহাস সেই চাপকে জয় করলেন দারুণভাবে। নিজের ঘূর্ণি জাদুতে একাই নাজেহাল করে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার। অভিষেকটাকে রাঙিয়ে নিলেন স্বপ্নের ফাইফারে।
পাকিস্তানের আতিথ্য নিতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। আর সেখানেই ভাগ্য খুলল আরাফাতের। প্রতিভাবানের তকমা তাঁর নামের পাশে ছিল আগেই, কিন্তু সেই প্রতিভার বাস্তব রূপ দেখানোর মঞ্চ খুঁজছিলেন এতদিন। অবশেষে মিলল সেই সুযোগ। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখলেন তিনি। তবে শুরুতে কেউ ভাবেনি, এই অভিষেকই অজিদের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠবে।
প্রথম আঘাতটা হানলেন জশ ইংলিসের ওপর। সেটাই যেন ছিল এক ঘোষণাপত্র—আজকের দিনটা আরাফাত মিনহাসের। একই ওভারে ফিরিয়ে দিলেন মার্নাস লাবুশেনকে। মুহূর্তেই ভেঙে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মেরুদণ্ড।

তবে গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি, বরং ওটাই ছিল কেবল সূচনা। পরের ওভারে এসে শিকার বানালেন ক্যামেরুন গ্রিনকে। আগলে রাখা স্টাম্প উপড়ে ফেলে পূর্ণ করলেন নিজের তৃতীয় শিকার। এরপর কিছুটা সময়ের জন্য যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু ম্যাথিউ শর্ট তখন ক্রিজে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছেন। ফিফটি তুলে দিশাহীন অজি রণতরীকে তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই মাঝসমুদ্রে ঝড় হয়ে আবার হাজির আরাফাত। এক নিখুঁত আঘাতে সরিয়ে দিলেন পথের সবচেয়ে বড় কাঁটাটাকে।
তবুও তাঁর ক্ষুধা মেটেনি। শেষদিকে আরও একবার আঘাত হানলেন তিনি। তুলে নিলেন পঞ্চম শিকার। আর সেই সঙ্গে নিজের অভিষেক ম্যাচটাকে পরিণত করলেন স্মরণীয় এক মহাকাব্যে।

১০ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন, খরচ করেছেন মাত্র ৩২ রান। আর নিজের ঝুলিতে পুরেছেন পাঁচ উইকেট। তাতেই অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে ২০০ রানে। এমন অভিষেক রীতিমতো স্বপ্নের, সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিল আরাফাত মিনহাসের কাছে। পাকিস্তান যে ভুল করেনি, ভুল মানুষের কাঁধে হাত রাখেনি, সেটারই প্রমাণ এই ১০টা ওভার।










