সুসংবাদ জোয়ারে ভাসছেন হাসান মাহমুদ

ইনজুরির দু:সময় ভুলে হাসান মাহমুদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কেবল তাঁর নিজের জন্যই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই এক বিশাল এবং আনন্দের বার্তা।

ইনজুরির অন্ধকার দিনগুলো পেরিয়ে আলোর মুখ দেখছেন দেশের তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। মাঠের বাইরে থাকার দীর্ঘ হতাশা কাটিয়ে একই সঙ্গে দুটি দুর্দান্ত সুখবর ডানা মেলেছে তাঁর ক্যারিয়ারে। একদিকে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) কলম্বো ক্যাপস এবং অন্যদিকে কাউন্টির ঐতিহ্যবাহী দল কেন্ট, উভয় জায়গা থেকেই এসেছে হাসানের ডাক।

লন্ডনের মাটিতে যখন ইনজুরি থেকে ফেরার লড়াই চালাচ্ছিলেন হাসান, তখনই ভাগ্য দেবী তাঁর দিকে সদয় হন। পুনর্বাসনের ফাঁকেই কেন্ট কাউন্টি দলের সঙ্গে অনুশীলনের এক দারুণ সুযোগ পান তিনি। নেটের সেই আগুনে বোলিং দেখেই কেন্ট কর্তৃপক্ষ মুগ্ধ হয়ে সরাসরি চুক্তির প্রস্তাব দেয় এই তরুণ তুর্কিকে।

সবকিছু ঠিক থাকলে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে অনাপত্তিপত্র পেলে, চলতি জুন মাসেই কেন্টের হয়ে কাউন্টির সাদা পোশাকে মাঠে নামবেন হাসান। খেলবেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ চার-দিনের ম্যাচ। সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টির এই মর্যাদাপূর্ণ সাদা জার্সি গায়ে জড়ানোর গৌরব অর্জন করবেন তিনি।

কাউন্টির মিশন শেষ করেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে হাসান পাড়ি জমাবেন লঙ্কার সবুজ দ্বীপে। এলপিএলের মঞ্চে কলম্বোর হয়ে বল হাতে গতির ঝড় তুলতে প্রস্তুত তিনি। সেখানে তিনি একা নন, বরং সাকিব আল হাসান, লিটন দাস এবং তাসকিন আহমেদদের মতো দেশের অন্য তারকাদের সাথে একই টুর্নামেন্টে মাঠ কাঁপাবেন হাসান। 

লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের আলো ঝলমলে আসর শেষ করে হাসান আবার ফিরে যেতে সেই ইংল্যান্ডের রৌদ্রজ্জল ২২ গজে। বোর্ড থেকে কোনো বাধা না থাকলে, আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে আবারও কেন্টের সেই চিরচেনা জার্সি গায়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে দেখা যাবে এই পেসারকে।

ইনজুরির দু:সময় ভুলে হাসান মাহমুদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কেবল তাঁর নিজের জন্যই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই এক বিশাল এবং আনন্দের বার্তা। দেশের জার্সির পর ভিন দেশে হাসানের স্টাম্প উপড়ে উল্লাস দেখার অপেক্ষায় থাকবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link