ক্লাব ফুটবলে হয়তো খুব বড় কোনো ক্লাবে তাঁর নাম নেই, এমনকি তিনি বর্তমানে কোন ক্লাবে খেলছেন সেই খবরও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জানা নেই। কিন্তু চার বছর পর পর বিশ্বমঞ্চে যখনই বিশ্বকাপের সাইরেন বাজে, তখন তিনি হয়ে ওঠেন অপারজেয়।
গিলের্মো ওচোয়ার মধ্যে একটা অদৃশ্য সুইচ আছে। যার বাটনটায় চার বছর একবার চাপ দেওয়া হয়। আর যেন বলা হয়, ‘বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে।’ ব্যাস, ওচোয়ার জায়ান্ট মোড অ্যাক্টিভেট হয়ে যায়। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চে তখন মেক্সিকোর গোলবক্সে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গিলের্মো ওচোয়া।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো। সদ্য ঘোষণা দিয়েছে তাঁরা নিজেদের ২৬ সদসস্যের স্কোয়াডের। যেখানে ডাক পাওয়া ওচোয়া গড়তে যাচ্ছেন এক অবিশ্বাস্য কীর্তি। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পা রাখছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি। আগামী ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ওচোয়ার এবারের ঐতিহাসিক মহাকাব্য।
রেকর্ডের পাতায় ওচোয়ার নাম বসতে যাচ্ছে লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ঠিক পাশেই। ৪১ বছর বয়সে এসে এই অর্জন মেক্সিকান ফুটবলে তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। সাইপ্রাসের এক অখ্যাত ক্লাব থেকে ফুটবলের বিশ্ব মঞ্চে তিনি যেন গ্লাভস হাতে সবচেয়ে চেনা নাম।

বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষে যত বড় খেলোয়াড় হন না কেন, ওচোয়া অসামান্য দক্ষতায় বল ঠেকিয়ে দেন সবারই। কখনো কখনো মনে হয়, মেক্সিকোর বাকি দশ জনের চেয়ে একা ওচোয়াই যেন বেশি খেলে ফেলছেন। বিশ্বকাপের মাঠে নামলে যেন তাঁর গ্লাভসে লেভ ইয়াসিন এসে ভর করেন।
এই বিশ্বকাপ শেষেই ওচোয়া তুলে রাখতে পারেন তাঁর জাদুকরী গ্লাভস জোড়া। ফুটবলকে বিদায় জানানোর শান্ত বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে খেলাটিকে তিনি মনভরে উপভোগ করেছেন। তাই শরীর আর মন যখন সায় দেবে, তখন এক বুক শান্তি নিয়ে মাঠ ছাড়বেন গোলবারের এই অপরাজেয় প্রহরী।
এ যুগের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ফুটবল বিশ্বকাপ আর ওচোয়া যেন একে অন্যের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপ আসবে, বিশ্বকাপ যাবে কিন্তু মেক্সিকোর গোলপোস্টের নিচে ওচোয়া নামের সেই অবিশ্বাস্য দেয়ালটিকে ফুটবল বিশ্ব আজীবন স্মরণ করে যাবে। বয়সের ভারে এবারের পর আর তাঁকে দেখা না গেলেও ঝাকড়া চুলের ফুটবলের এই শিল্পীকে মনে রাখা হবে আজীবন।











