এ যেন নিয়তির বৃত্ত!

মাঠের মাঝেই সবাইকে চুপ থাকার ইশারা করে বুঝিয়ে দেন, একটা ভুল কখনো কোনো ফুটবলারের শেষ পরিচয় হতে পারে না।

২৩ বছরের এক তরুণ মাঠের এক সেকেন্ডের ভুলে হুট করেই পুরো দেশের শত্রু বনে গেলেন! আবার চার বছর পর, সেই একই প্রতিপক্ষের বুকে পেনাল্টির ছুরি চালিয়ে ফিরে পেলেন হারানো রাজত্ব!

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ডিয়েগো সিমিওনের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। সেই এক ভুলের খেসারত দিতে হয়েছিল নরকযন্ত্রণা সহ্য করে। অথচ ২০০২ বিশ্বকাপে সেই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ইতিহাস রচনা করেন তিনি।

২০০২ সালের বিশ্বকাপ, মুখোমুখি দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ইংলিশরা।স্পট-কিকের সামনে এসে দাঁড়ালেন অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম। কাঁধের ওপর চার বছরের জমাট বাঁধা গ্লানি আর কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ।

​বেকহ্যাম শট নিলেন, আর আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল আছড়ে পড়ল জালে! গোলের পর অশ্রুসজল চোখে জার্সির লোগো জড়িয়ে ধরে বেকহ্যামের সেই বুনো উদযাপন যেন এক দীর্ঘশ্বাসের মুক্তি ছিল। সেই ১-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনাকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় করে দিয়ে মধুরতম এক প্রতিশোধ নিয়েছিল ইংল্যান্ড।

​অথচ এর চার বছর আগের চিত্রটা ছিল ঠিক উল্টো। ১৯৯৮ সালের সেই হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে তখন ২-২ স্কোরের চরম উত্তেজনা। খেলার ৪৭ মিনিটে বেকহ্যামকে কড়া ফাউল করেন সিমিওনে। মাটিতে শুয়ে থাকা বেকহ্যামের মাথায় সিমিওনে আলতো চাপড় মারতেই রাগের মাথায় পা বাড়িয়ে বসেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

​সুযোগসন্ধানী সিমিওনেও নাটকীয়ভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রেফারি বেকহ্যামকে লাল কার্ড দেখান। ১০ জনের দল নিয়ে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

ফুটবলের ইতিহাসে অবশ্য এমন পতন আর উত্থানের গল্প নতুন কিছু নয়। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে টাইব্রেকার মিস করার অপরাধে রবার্তো বাজ্জিও এক লহমায় খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। দিনের পর দিন সেই মিসের দুঃস্বপ্ন তাড়া করে বেড়াত তাঁকে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই চিলির বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত গোল করে সব সমালোচনার কড়া জবাব দেন তিনি। মাঠের মাঝেই সবাইকে চুপ থাকার ইশারা করে বুঝিয়ে দেন, একটা ভুল কখনো কোনো ফুটবলারের শেষ পরিচয় হতে পারে না।

​আসলে নিয়তি বোধহয় এভাবেই নিজের বৃত্ত সম্পূর্ণ করে। ২০১৬ সালে বেকহ্যাম নিজেই স্বীকার করেছিলেন, ৯৮ সালের সেই অভিশপ্ত লাল কার্ডটিই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। কারণ, ভাঙাচোরা এক ভিলেনের খোলস ছেড়ে ডেভিড বেকহ্যামের ডানা মেলার গল্পটাই ফুটবল চিরকাল মনে রাখবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link