ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই নতুন কিছু, ভিন্ন কিছু। নতুন কোনো পরাশক্তির আবির্ভাব, অজানা কোনো খেলোয়াড়ের মহানায়ক হয়ে ওঠা কিংবা আধুনিক কোনো প্রযুক্তি, প্রতিটি বিশ্বকাপই আমাদের কাছে হাজির হয় নতুন রূপ নিয়ে। তবে, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল পৃথিবীবাসীকে উপহার দিতে যাচ্ছে এমন কিছু, যা আগে কখনো দেখেনি ফুটবল বিশ্ব।
এবারের ফাইনালে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে এক জমকালো ‘হাফটাইম শো’। যা একই সাথে নিশ্চিত করবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো না হওয়া এই শো-এর বীজ বোনা হয়েছিল আজ থেকে এক দশকেরও বেশি সময় আগে।
২০১৫ সালের সাধারণ ফোন কলের এক মাধ্যমে। খ্যাতনামা ব্যান্ড কোল্ডপ্লে-এর ক্রিস মার্টিন গ্লোবাল সিটিজেনের সিইও হিউ ইভান্সকে ফোন করেন। গ্লোবাল সিটিজেন হলো শিক্ষা ও দারিদ্র্য নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। ক্রিস মার্টিন ফোনকলে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার এবং জাতিসংঘের সাথে কাজ করতে চাই, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাহায্য করতে।’

সেই একটিমাত্র ফোন কলই আজ রূপ নিয়েছে ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিনোদনমূলক আয়োজনে। শুধু ফুটবল বা সুরের মূর্ছনা নয়, এই আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক মহৎ উদ্দেশ্য। এই প্রয়াসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বব্যাপী একতা গড়ে তোলা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নো ইনফান্তিনো এবং হিউ ইভান্সের আলোচনার পর এই মহৎ ভাবনাটি এক অভাবনীয় গতি পায়। পৃথিবীর এই অস্থির সময়ে ইভান্সের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, ‘এই মুহূর্তে পৃথিবীর আসলে কী প্রয়োজন?’ আর সেই চিন্তা থেকেই পুরো পৃথিবীকে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার মতন একটি পবিত্র উদ্দেশ্যে এক সুতোয় বাঁধার এই পরিকল্পনা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট বিক্রির একটি বড় অংশ সরাসরি চলে যাবে বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে। এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হবেন পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, শাকিরা এবং কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএস। সাথে মঞ্চ কাঁপাতে দেখা যাবে সেসামি স্ট্রিট আর দ্য মাপেটসের মতো জনপ্রিয় সব চিলড্রেন ক্যারেক্টারদের।

গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু উন্মাদনা আর উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয় না। বরং, পৃথিবীর সকল প্রান্তের সব মানুষকে কাছে টেনে আনে। বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে হতে যাওয়া এমন মানবতাবাদী কাজ আবারও ফুটবলের বিশ্বজনীনতার প্রমাণ দিল।










