নতুন যুগে ভারতের টি-টোয়েন্টি!

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টিম ইন্ডিয়ার পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন শ্রেয়াস আইয়ার।

ভারতীয় ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সিংহাসনে এবার বসতে যাচ্ছেন নতুন এক রাজা! অফফর্মে থাকা  সুরিয়াকুমার যাদবের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে দলের ব্যাটন। আর সেখানেই, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টিম ইন্ডিয়ার পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন শ্রেয়াস আইয়ার।

নেতৃত্বের এই পালাবদল অবশ্য খুব একটা সহজ ছিল না। পর্দার আড়ালের ঘটনাগুলো নাটকীয়তার ভরপুর যেখানে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর চেয়েছিলেন, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাঞ্জু স্যামসনকে দলের অধিনায়ক করতে। কিন্তু গম্ভীরের সেই প্রস্তাবে বাঁধ সেধেছে খোদ বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) আর প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার।

সাঞ্জুকে নিয়ে গম্ভীরের পরিকল্পনা আলোর মুখ না দেখলেও, শ্রেয়াসের অধিনায়কত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। চাপের মুখে মাথা একেবারে ঠান্ডা রেখে ম্যাচ জেতানো এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আর ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত নেতৃত্বের ট্র্যাক রেকর্ডই শ্রেয়াসকে এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। 

একদিকে যখন অধিনায়কত্বের মুকুট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, অন্যদিকে সহ-অধিনায়ক পদেও আসছে বড় চমক। সুরিয়াকুমারের সহকারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন অক্ষর প্যাটেল। তবে, শ্রেয়াসের সাথে আর তাঁকে দেখা নাও যেতে পারে। যেখানে ভারতের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট গড়ার পরিকল্পনায় শ্রেয়াসের ডেপুটি হিসেবে থাকতে যাচ্ছেন তরুণ তুর্কি তিলক ভার্মা।

সুরিয়াকুমারের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার রেশ এখনো কেটে যায়নি। আর এরই মধ্যে শ্রেয়ার আইয়ারের হাতে ধরে ভারতের ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূর্যোদয় হতে যাচ্ছে। এখন শুধু বিসিসিআইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এই নতুন অধ্যায়ের পর্দা ওঠার অপেক্ষা মাত্র।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link