জয় দিয়েই চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করলো মেসিবাহিনী!

আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ৩-০ গোলে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করে দিল, তারা কেবল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নয়, বরং নতুন করে বিশ্বজয়ের সংকল্পে অটল।

বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগ মুহুর্তে এই ম্যাচটি যেন ছিল আলবিসেলেস্তেদের জন্য এক চূড়ান্ত মহড়া। সেই মহড়ায় আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ৩-০ গোলে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করে দিল, তারা কেবল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নয়, বরং নতুন করে বিশ্বজয়ের সংকল্পে অটল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বজায় রেখেছিল লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যরা। অষ্টম মিনিটেই ভ্যালেন্টিন বারকোর বা পায়ের জাদুতে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে স্কোরকার্ডের উদ্বোধন করেন এই আর্জেন্টাইন তরুণ। প্রথমার্ধের বাকি সময়টা জুড়ে অপরিবর্তিতই থাকে স্কোরলাইন।

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় এনজো ফার্নান্দেজ কিংবা লাউতারো মার্টিনেজদের মতো তারকাদের। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের একটি শট গোলবারে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে ঠিক তার তিন মিনিট পর।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইনজুরি কাটিয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। মেসি নামার সাথে সাথেই যেন পুরো ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। এক মিনিটের মধ্যেই লাউতারো মার্টিনেজকে লক্ষ্য করে এমন এক নিখুঁত পাস দেন যা থেকে পেনাল্টি আদায় করে নেয় আর্জেন্টিনা।

৭০তম মিনিটের সেই পেনাল্টি স্পট থেকে যখন বলটি জালে জড়ালেন মেসি, তখন জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে যেন পূর্ণতা পেল এক মহাকাব্যিক দৃশ্য। বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়া তো দূরের কথা। বরং মাঠের প্রতিটি পদচারণায় তিনি জানান দিলেন – মহারণের মঞ্চে নামার আগে ধারালো তলোয়ারের মতোই তিনি প্রস্তুত, আজও অদম্য, আজও অনবদ্য।

​শেষের দিকে আইসল্যান্ড কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও মেসি ও সতীর্থদের সম্মিলিত চাপে তারা কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে আবারও দেখে মেলে মেসি ম্যাজিকের। তাঁর নিখুঁত এক পাসে বল রিসিভ করেন রদ্রিগো ডি পল। ডি পলের এসিস্টেই আলমাদার দারুণ এক গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link