বিশ্বকাপের আগে আরও একবার মেসি ম্যাজিক

মাঠে থাকা প্রতিটি মিনিটে যেন গোলের খিদা নিয়েই ছুটছিলেন মেসি। একটা গোল করেই থামেননি ,নিজের পুরো প্লে টাইম জুড়ে বারবার সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা, যেন স্কোরলাইনে আরও একটা যোগ করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

 অবার্নের জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে দর্শকরা এসেছিলেন একটাই কারণে , মেসিকে দেখতে। প্রথমার্ধে তাঁকে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে হয়তো  অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন অনেকে। কিন্তু ৬৮তম মিনিটে যখন সেই চেনা দশ নম্বর জার্সি মাঠে পা রাখল, পুরো স্টেডিয়াম যেন একসাথে গর্জে উঠল।

মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই মেসি বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁকে নিয়ে এত অপেক্ষা। ৭১তম মিনিটে তাঁর তীক্ষ্ণ পাসে বক্সে ঢুকলেন লাউতারো মার্তিনেজ, আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক বেরিয়ে এসে ফেলে দিলেন তাঁকে। পেনাল্টি। লাউতারো নিজে গোল করার সুযোগ পেলেন না — বল তুলে নিলেন মেসি নিজেই। স্পটে রাখলেন, পিছিয়ে গেলেন, শট নিলেন — গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না,আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে গেলো।

কিন্তু সেখানেই থামলেন না। তৃতীয় গোলেও মেসির ছাপ। রদ্রিগো ডি পলকে দারুণ পাস দিলেন, ডি পল বাড়িয়ে দিলেন থিয়াগো আলমাদার কাছে — আলমাদা জালে পাঠালেন বল। স্কোরলাইন ৩-০।

 

মাঠে থাকা প্রতিটি মিনিটে যেন গোলের খিদা নিয়েই ছুটছিলেন মেসি। একটা গোল করেই থামেননি — নিজের পুরো প্লে টাইম জুড়ে বারবার সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা, যেন স্কোরলাইনে আরও একটা গোল যোগ করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

এর আগে প্রথমার্ধে ভ্যালেন্তিন বার্কো মাত্র অষ্টম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে এগিয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে। পুরো ম্যাচে ৭২ শতাংশ বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

হ্যামস্ট্রিং চোটে কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন মেসি। হন্ডুরাসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বেঞ্চেই কাটিয়েছিলেন পুরো সময়। মাঠে নেমে মাত্র তিন মিনিটে গোল, এরপর আরেকটি অ্যাসিস্ট — এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচের গল্প নয়, এটা একটা ঘোষণা।

 

১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু হবে শিরোপা রক্ষার অভিযান। তার আগে অবার্নের এই রাতটি লক্ষ লক্ষ আর্জেন্টাইন সমর্থকের বুকে একটাই বার্তা রেখে গেল — মেসি এসে গেছেন।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link