বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই স্নায়ুচাপ, সাহস আর অনিশ্চয়তার মঞ্চ। এখানে এক মুহূর্তের ভুল কিংবা এক ঝলক অনুপ্রেরণাই বদলে দিতে পারে ফুটবল ইতিহাস। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের হাতে জার্মানির বিদায় সেই চিরন্তন সত্যকেই আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের পাঁচটি স্মরণীয় অঘটনের দিকে এবার তাই ফিরে দেখা যাক।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিস্ময় ছড়ায় বুলগেরিয়া। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে তারা। ইয়োরদান লেচকভের জয়সূচক গোল বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।
আট বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় সহ-আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়া নাটকীয়ভাবে বিদায় করে দেয় ইতালিকে। প্রথমে পিছিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় কোরিয়ানরা। অতিরিক্ত সময়ে আহন জুং-হোয়ানের গোল্ডেন গোলে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে তারা।

২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি। ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ফলগুলোর একটি এটি। ঘরের মাঠে ব্রাজিলের এমন বিপর্যয় আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের বেদনাময় অধ্যায় হয়ে আছে।
এদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লেখে মরক্কো। শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠেন হাকিমিরা।
চলতি বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন রূপকথা রচনা করেছে প্যারাগুয়ে। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে তারা নকআউটের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে। এবারের আসরে ফের এমন অঘটনের জন্ম দিয়ে আর কেউ ডার্ক হর্স হয়ে উঠবে কি-না তা সময়ই বলে দেবে।











