তাঁকে নিয়ে এত বেশি আলোচনা হয় না, তারকাখ্যাতির শিখরে নেই তিনি; কিন্তু, বল পায়ে আসলে নিজের কাজটা যতটা দক্ষতার সাথে করে দেন, সেই জায়গায় ব্রুনো গুইমারেস নিজেই নিজের তুলনা। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অপরাজিত থাকার নেপথ্য কারিগর আর মাঝমাঠের আসল ইঞ্জিন এই ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
অথচ বিশ্বকাপের শুরুটা ব্রুনোর জন্য এত সুন্দর করে হয়নি। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিল ব্রাজিলের মিডফিল্ড। সেই সাথে খেই হারিয়ে বসেছিলেন ব্রুনোও। তবে চেনা ছন্দ ফিরতে সময় লাগেনি এই প্রতিভাবান ফুটবলারের। পরের ম্যাচগুলোতেই খোলস ছেড়ে বের হন ব্রুনো। মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে বদলে দেন সেলেসাওদের খেলার গতিপথ।

চার ম্যাচে চার অ্যাসিস্ট, বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের যোগানদাতা এই তরুণ। জাপানের বিপক্ষে নকআউটের শেষ মিনিটে ইনজুরি টাইমে তাঁর সেই জাদুকরী পাস থেকেই গোল করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ব্রুনোর সেই বুদ্ধিদৃপ্ত অ্যাসিস্টেই নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের শেষ ষোলোর টিকিট।
বল পজেশন ধরে রাখা, নিখুঁত টাইমিংয়ে পাস এবং আক্রমণভাগের জন্য গোল বানানোর নিখুঁত কারিগরের প্রতিটা কাজই দক্ষ হাতে করে যাচ্ছেন ব্রুনো। তাঁর এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখেই ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ৫৫ মিলিয়নের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল নিউক্যাসেল ইউনাইটেডকে। কিন্তু, ব্রুনোকে হারাতে না চেয়ে নিউক্যাসেল এক বাক্যে ফিরিয়ে দেয় সেই বিশাল অফার।

ব্রাজিল যত ম্যাচ খেলছে, ব্রুনোর হাত ধরে তাদের মাঝমাঠ ততটাই ধারালো হচ্ছে। নেইমার জুনিয়র -ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের স্টারডমের ভিড়ে প্রচারের আলোয় না থেকেও তিনি দলের অপরিহার্য মেরুদণ্ড। হেক্সার সোনালী স্বপ্ন ছুঁতে হলে এই মাঝমাঠের জাদুকরের ফর্ম ধরে রাখা ব্রাজিলের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি।










