এমবাপ্পে কি দলে স্বৈরশাসক? যা বলছেন দেশ্যম

ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড কি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বদলে দিয়েছে? সামাজিক মাধ্যমে যখন তাকে ঘিরে ‘স্বৈরশাসক’ তকমার গল্প ছড়াচ্ছে, তখন ড্রেসিংরুমের ভেতরের সত্যিটাই সামনে আনলেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম।

ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড কি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বদলে দিয়েছে? সামাজিক মাধ্যমে যখন তাকে ঘিরে ‘স্বৈরশাসক’ তকমার গল্প ছড়াচ্ছে, তখন ড্রেসিংরুমের ভেতরের সত্যিটাই সামনে আনলেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশ্যম।

প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর সংবাদ সম্মেলনে দেশ্যম স্পষ্ট ভাষায় বললেন, এমবাপ্পেকে নিয়ে যে জনমত তৈরি হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। তার ভাষায়, ‘আপনারা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে যেন একজন স্বৈরশাসক বানিয়ে ফেলেছেন। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।’

মূলত পিএসজিতে কাটানো সময় থেকেই এমবাপ্পেকে ঘিরে এমন ধারণা তৈরি হয়। কোচ নিয়োগ-বদল থেকে শুরু করে দল গঠনে তার অতিরিক্ত প্রভাব ছিল–এমন আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবল অঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ধারণাই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যঙ্গাত্মক মিমের রূপ নেয়।

তবে দেশমের দাবি, ড্রেসিংরুমের এমবাপ্পে একেবারেই ভিন্ন মানুষ। তার মতে, এমবাপ্পে সবসময় পরিণত আচরণ করেন। সতীর্থদের আস্থা অর্জন করেছেন এবং মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে কথা বলার সময় পুরো দলের প্রতিনিধিত্বই করেন তিনি। তাই তাকে অধিনায়ক হিসেবে পেয়ে দেশম সন্তুষ্ট।

এদিকে শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন ও শারীরিক লড়াইয়ের ম্যাচের জন্য আগেই দলকে প্রস্তুত করেছিলেন দেশম। প্রতিপক্ষের বেঞ্চ থেকে অপ্রীতিকর মন্তব্য এলেও তার খেলোয়াড়েরা সংযম হারাননি। ম্যাচ শেষে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে না জড়ানো এবং অতিরিক্ত কার্ড না পাওয়াকেই তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে এমবাপ্পেও প্রতিপক্ষের কৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ফ্রান্স শুধু নান্দনিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে জানে না, প্রয়োজন হলে কঠিন ও লড়াকু ফুটবলও খেলতে পারে, ‘ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা টাক্সেডো পরে মাঠে নামব। কিন্তু প্রয়োজনে লড়াই করতেও আমরা জানি। আমরা জিতেছি, কারণ আমরাই ছিলাম ভালো দল।’

এবার কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। সেখানে এমবাপ্পের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক নয়, বরং তার পারফরম্যান্সই হবে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link