এমবাপ্পের শেষ প্রাপ্তি মুছে দিতে পারবেন কি মেসি?

একদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পে, অন্যদিকে লিওনেল মেসি। এমবাপ্পে নিজের কাজ করে ফেলছেন, আর বাকি আছে মেসির পালা। গোল্ডেন বুট জিততে হলে যে অবিশ্বাস্য কিছু করতেই হবে মেসিকে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের লড়াই যেমন শেষ ম্যাচে গিয়ে ঠেকেছে, তেমনি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নিয়েও তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চকর সমীকরণ। একদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পে, অন্যদিকে লিওনেল মেসি। এমবাপ্পে নিজের কাজ করে ফেলছেন, আর বাকি আছে মেসির পালা। গোল্ডেন বুট জিততে হলে যে অবিশ্বাস্য কিছু করতেই হবে মেসিকে।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের মোট গোল হয়েছে ২২টি। তাতে লিওনেল মেসির ২১ গোলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেছেন ফরাসি মহাতারকা।

অন্যদিকে ফাইনালের আগে মেসির গোল ৮টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। এমবাপ্পেও বিশ্বকাপ শেষ করেছেন ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে। অর্থাৎ অ্যাসিস্টে দুজন এখন সমান অবস্থানে। তাই ফাইনালটাই নির্ধারণ করবে ব্যক্তিগত এই সিংহাসনের মালিককে।

সমীকরণটা সহজ। মেসি যদি ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেন, তাহলে ১১ গোল নিয়ে সরাসরি গোল্ডেন বুট জিতে নেবেন। কিন্তু যদি করেন দুই গোল, তাহলে তাঁর গোলসংখ্যাও দাঁড়াবে ১০-এ। সেক্ষেত্রে এমবাপ্পের সঙ্গে গোল ও অ্যাসিস্ট, দুই দিক থেকেই সমতা তৈরি হবে।

আর ঠিক তখনই কার্যকর হবে ফিফার টাইব্রেকার নিয়ম। প্রথমে দেখা হয় গোলসংখ্যা, এরপর অ্যাসিস্ট। এই দুই সূচক সমান হলে বিবেচনায় আসে মাঠে খেলা মোট মিনিট। অর্থাৎ যিনি কম মিনিট খেলে একই সংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, গোল্ডেন বুট উঠবে তাঁর হাতেই। এই সময়ের হিসাব টানলে এমবাপ্পে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন ৬৯৯ মিনিট খেলে, বিপরীতে মেসির ৬২১ মিনিট। অর্থাৎ ৭৮ মিনিটের একটা ব্যবধান। ফাইনালের ফলাফল যদি ৯০ মিনিটেও আসে আর মেসি যদি পুরোটা সময় মাঠে থাকেন তবে হ্যাটট্রিক করতে না পারলে গোল্ডেন বুটটা উঠবে এমবাপ্পের হাতে।

কাতার বিশ্বকাপে এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন, আর মেসি জিতেছিলেন বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল। চার বছর পর আবারও ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে এই দুই মহাতারকা। তবে এবার পার্থক্য একটাই—এমবাপ্পের অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করার নেই, আর মেসির হাতে এখনও রয়েছে এক ম্যাচ, যেখানে বদলে যেতে পারে পুরো হিসাব-নিকাশ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link