আর্সেনাল ২৩ বছর অপেক্ষার পর শিরোপা জিতেছিল। সেই সাফল্যের পর থেকেই বুকায়ো সাকাকে নিয়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাস যেন আকাশছোঁয়া। কেউ কেউ তো তাঁকে প্রাইম লিওনেল মেসির সঙ্গেও তুলনা করতে শুরু করেছিলেন। তবে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল সেই আবেগে ভাসেননি। পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাকাকে শুরুর একাদশের বাইরে রেখেছিলেন। সুযোগ এল কেবল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। আর সাকাও হ্যাটট্রিক করে বোঝালেন শুরু থেকে থাকলে তিনি কি করতে পারেন। প্রশ্নটা তাই জেগে ওঠে, এই সাকা যদি ম্যাচের শুরু থেকেই শুরু করতেন তবে কি ইংল্যান্ড ফাইনালে থাকত?
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল ইংল্যান্ডের একচ্ছত্র আধিপত্য। ২০ মিনিটেই দুই গোল করে বসে তারা। এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার শো। ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল করেন তিনি। যোগ করা সময়ে কনসার পাস থেকে বাঁ পায়ের দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ডের ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
ফ্রান্স যখন প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছে, তখন আবার সামনে আসেন সাকা। ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন সাকার হাতে। স্পটকিক থেকে ভুল না করে পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় হ্যাটট্রিক।

এই পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা টেনে এনেছে সাকাকে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে যদি শুরু থেকেই তাঁকে খেলানো হতো, তাহলে কি ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠতে পারত? এমন প্রশ্ন উঠবেই। কারণ সুযোগ পেয়েই তিনি হ্যাটট্রিক করেছেন, সামর্থের নিদর্শন ঘটিয়েছেন।
তবে বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব মূল টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচের মতো নয়। এটি দুই পরাজিত দলের লড়াই, যেখানে হারার চাপ নেই, শিরোপার স্বপ্নও নেই। দুই দলই একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছিল, খেলোয়াড়রাও অনেকটা নির্ভার ফুটবল খেলেছেন। ফলে ম্যাচটি স্রেফ যেমন খুশি তেমন খেলো টাইপের।
তাই বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তিনি প্রমাণ করেছেন সুযোগ পেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর আছে। কিন্তু শুধু এই একটি গুরুত্বহীন ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না, সাকা শুরু থেকেই খেললে ইংল্যান্ড অবশ্যই ফাইনালে উঠত। ফুটবলে ‘যদি’র কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই।











