খাদের কিনারা থেকে সানার একার লড়াই!

অধিনায়ক এভাবেই তো খেলেন! দল যখন খাদের কিনারায়, তখনই একা কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিলেন ফাতিমা সানা

অধিনায়ক এভাবেই তো খেলেন! দল যখন খাদের কিনারায়, তখনই একা কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিলেন ফাতিমা সানা। জাপানের নিসশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমস উইমেন্স ক্রিকেটের ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিং নেয় পাকিস্তান, শুরুটা দারুন হলেও  বাংলাদেশের বোলারদের তোপে ৭ম ওভারের উইকেট পতনের শুরু,  এরপর মাঝের ওভারগুলোতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে একসময় বড় চাপে পড়ে যায় দলটি।

গুল ফিরোজা, শাওয়াল জুলফিকার, আয়েশা জাফর ও আইমান ফাতিমার উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। এই বিপর্যয়ের মধ্যে আলিয়া রিয়াজকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সানা। রিয়াজ ২২ বলে ২৫ রান করে নিগার সুলতানার স্টাম্পিংয়ে রিতু মনির শিকার হন, ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও একটি চার।

ইনিংসের শেষ ওভারগুলোতে দ্রুত রান তুলে দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় নিয়ে যান ফাতিমা সানা। শেষ পাঁচ ওভারে ৫৫ রান তোলে পাকিস্তান, যদিও এই সময়ে ৩ উইকেট হারাতে হয় তাদের। ইনিংসের একদম শেষ বলে দিলারা আক্তারের হাতে ক্যাচ দিয়ে নাহিদা আক্তারের বলে আউট হন সানা, ৩০ বলে করেন ৪৫ রান। ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা। তার এই ইনিংসেই পাকিস্তান পৌঁছায় ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রানে, বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ১৪৬ রানের।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিতু মনি ও নাহিদা আক্তার নেন দুটি করে উইকেট, শর্না আক্তারও নেন দুই উইকেট।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর করাচিতে জন্ম নেওয়া ফাতিমা সানা পাকিস্তান নারী দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান ২০২৪ সালের আগস্টে। ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলিং অলরাউন্ডার সানা পাকিস্তানের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন দ্য হান্ড্রেডে। কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে টানার অভ্যাস তার নতুন নয়, এবারের ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও সেটাই আবার দেখা গেল।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link