অলিম্পাসের চূড়ায় কিলিয়ান এমবাপ্পে

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়ে এতদিন তিনি শীর্ষ গোলদাতার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো ২২ গোল করে এককভাবে উঠে গেলেন শীর্ষে। আর সেটাই বোধহয় হয়ে থাকল চূড়ান্ত লিড।

কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন এই বিশ্বকাপকে নিজের করে নেওয়ার শেষ ঘোষণা দিলেন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেই। দল হারলেও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও গাঢ় করে লিখলেন ফরাসি সুপারস্টার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জোড়া গোল করে শুধু বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডই নিজের করে নেননি, কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেছেন এবারের আসরের গোল্ডেন বুট প্রাপ্তিও।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়ে এতদিন তিনি শীর্ষ গোলদাতার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো ২২ গোল করে এককভাবে উঠে গেলেন শীর্ষে। আর সেটাই বোধহয় হয়ে থাকল চূড়ান্ত লিড। আগামী ৩০-৪০ বছরে এমবাপ্পের এই সিংহাসন আর কারও পক্ষে নেওয়াটা খুব কঠিনই বটে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে দুই গোল করেছেন। ৫৪ মিনিটে গোল করিয়েছেন। প্রথমার্ধে নিস্তেজ ফ্রান্সের বুকে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আগুন তো জ্বালিয়েছেন তিনিই। শেষমেষ জেতা হয়নি, চতুর্থ দল হিসেবেই শেষ হয়েছে ফ্রান্সের অভিযান। তাতে অবশ্য এমবাপ্পের কিছুই যায় আসে না। এবারের বিশ্বকাপও যে নিজের করে নিয়েছেন এই ফরাসি দানব।

এবারের বিশ্বকাপ আসরে তিনি ১০ গোলের মালিক বনে গেলেন। পেছনে ফেললেন লিওনেল মেসিকে। শুধু তা-ই নয়, নামের পাশে আছে আরও চারটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ এবারের বিশ্বকাপে ১৪ গোলে অবদান তাঁর।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে ট্রফি ছাড়াই। কিন্তু এমবাপ্পে শেষ করেছেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, সম্ভাব্য গোল্ডেন বুটজয়ী এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের ফুটবলার হিসেবে। দল ব্যর্থ হলেও, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের আলোয় বিশ্বকাপের শেষ দিনটাও তাই নিজের করে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link