শারমিনের একা লড়াইয়ের দিনে সঙ্গী শুধু হতাশা

শারমিন আক্তার একা চেষ্টা করে গিয়েছেন সেই নিঃসঙ্গ শেরপার মতো, যিনি পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার সব প্রস্তুতি নিয়েও শেষমেশ সঙ্গীর অভাবে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

শারমিন আক্তার একা চেষ্টা করে গিয়েছেন সেই নিঃসঙ্গ শেরপার মতো, যিনি পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার সব প্রস্তুতি নিয়েও শেষমেশ সঙ্গীর অভাবে ফিরে আসতে বাধ্য হন। টি-টোয়েন্টির মতো খেলায় একা লড়ে গেলে ১৪৬ রানও তখন অনেক দূরের এক পাহাড় হয়ে ওঠে। অপরাজিত ৪৫ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেও তাই দলকে জেতাতে পারেননি শারমিন।

যখন ক্রিজে নেমেছিলেন তখন কাজ ছিল ব্যাটিং বিপর্যয় থামানো। এরপর কাজ ছিল সময়ের সঙ্গে রানের গতি বাড়ানো। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন অধিনায়ক জ্যোতিকে, কিন্তু তিনিও রানের চেয়ে বল খরচ করেছিলেন বেশি, চাপ বাড়ছিল ক্রমেই। এক পর্যায়ে আউট হয়ে ফিরলেন জ্যোতি, এরপর আর অন্য প্রান্তে আউট হওয়ার মিছিল থামেনি। একে একে ব্যাটাররা এলেন আর গেলেন, কেবল শারমিন থেকে গেলেন শেষ পর্যন্ত। যে ইনিংসের জন্য হিরো হতে পারতেন, সেই ইনিংস খেলেও মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো তাকে।

২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া শারমিন প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে খেলছেন। এখন পর্যন্ত ৫০টি ওয়ানডে খেলে করেছেন ১৪১৭ রান, গড় ৩১। টি-টোয়েন্টিতে ৩২ ম্যাচে রান ৫৫৩, গড় প্রায় ২০, এই ফরম্যাটে তার ভূমিকাটা মূলত ইনিংস গড়ে দেওয়ার, বড় শট খেলার না।

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটা এসেছিল ২০২১ সালে, নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অপরাজিত ১৩০ রানের ইনিংস খেলেন, যা বাংলাদেশের কোনো নারী ক্রিকেটারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এছাড়া ২০১৪ সালের ইনচন এশিয়ান গেমসেও দলের সঙ্গে রুপা জিতেছিলেন তিনি।

এবারের আসরে অবশ্য ফর্ম খুব একটা সহায় ছিল না, ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র ১০ রানে থেমে গিয়েছিলেন। ব্রোঞ্জের লড়াইয়েই যা একটু নিজেকে মেলে ধরলেন, কিন্তু সেই ইনিংসও যথেষ্ট হলো না দলকে জেতানোর জন্য।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টপ অর্ডারের নির্ভরযোগ্য একজন ব্যাটার হিসেবেই পরিচিতি শারমিনের, মাঝেমধ্যে বড় মুহূর্ত এনে দিলেও বেশিরভাগ সময় থেকে যান আলোচনার বাইরে। আজকের ইনিংসটাও সেই তালিকাতেই যোগ হলো।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link