মোহাম্মদ শামির ক্রিকেটজীবনে ৬ নভেম্বর তারিখটা খুবই স্পেশাল। ২০১৩ সালের এই দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। ঠিক ১৩ বছর পর, আরেক ৬ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ভারতের এই পেসার। যেন একই তারিখে লেখা হলো একটি অধ্যায়ের শুরু আর শেষ।
মাঝখানের গল্পটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। সাদা পোশাকে ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন শামি। নিয়েছেন ২২৯ উইকেট। গড় ২৭.৭১। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ছয় বার। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ৫৬ রানে ৬ উইকেট ছিল তাঁর সেরা বোলিং।
উত্তর প্রদেশের আমরোহা থেকে উঠে আসা এই পেসার নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন পরিশ্রম আর ধারাবাহিকতায়। নতুন বলে সুইং, পুরোনো বলে রিভার্স সুইং, গতির সঙ্গে নিখুঁত লাইন-লেন্থ, সব মিলিয়ে শামি হয়ে উঠেছিলেন ভারতের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা। তাঁর বলের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাটারদের ভুল করার অপেক্ষা করতে হতো না। কখনো কখনো বল নিজেই কথা বলত।

তবে শামির এই যাত্রায় ফুলের চেয়ে কাঁটাই ছিল বেশি। চোট এসেছে, ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। তবু প্রতিবারই ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন। শেষবার ২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। এরপর চোট ও ফিটনেসের সমস্যায় আর লাল বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলে ফেরা হয়নি। বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতির বাস্তবতা মেনে শেষ পর্যন্ত এই ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করেছেন শামি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা, পরিবার, বন্ধু, কোচ এবং তাঁর পাশে থাকা মানুষদের। জানিয়েছেন, এই ১৩ বছরের যাত্রায় অনেকবার পড়ে গেছেন, আঘাত পেয়েছেন, চোটে ভুগেছেন। কিন্তু প্রতিবারই আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই নিজেকে তৈরি করেছেন নতুন করে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন শামি। পূর্বাঞ্চলের হয়েও মাঠে নেমেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই তাঁর পরিচিতি ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। ভারতের জার্সিতে তাঁর প্রতিটি স্পেল ছিল লড়াইয়ের নতুন গল্প।

ক্রিকেটে শেষ বলে কিছু নেই, থাকে শুধু স্মৃতি। শামির ক্ষেত্রেও তাই। ৬৪ টেস্ট, ২২৯ উইকেট, অসংখ্য স্মরণীয় স্পেল আর ফিরে আসার অদম্য মানসিকতা। পরিসংখ্যান একদিন পুরোনো হবে, রেকর্ডও হয়তো কেউ ভেঙে দেবে। কিন্তু বল হাতে শামির সেই ছুটে আসা, ক্রিজে আছড়ে পড়া বল আর ব্যাটারের স্টাম্প ছিটকে যাওয়ার দৃশ্যগুলো থেকে যাবে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে। মনে থাকবে, ফিনিক্স পাখি হয়ে বারবার ফিরে আসা নেই দুর্ণিবার মানুষটার নাম ছিল মোহাম্মদ শামি।










