এলপিএলে ইতিহাস গড়লেন তৌহিদ হৃদয়!

লংকা প্রিমিয়ার লিগের কোয়ালিফায়ারে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ইতিহাস গড়েছে জাফনা কিংস। আর সেই ইতিহাসের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশের তৌহিদ হৃদয়। ইনিংসের শেষ দিকে নেমে মাত্র ২১ বলেই অপরাজিত ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ২৫৭.১৪।

লংকা প্রিমিয়ার লিগের কোয়ালিফায়ারে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ইতিহাস গড়েছে জাফনা কিংস। আর সেই ইতিহাসের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশের তৌহিদ হৃদয়। ইনিংসের শেষ দিকে নেমে মাত্র ২১ বলেই অপরাজিত ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ২৫৭.১৪।

জাফনা কিংসের ইনিংসের ১৬তম ওভারে ক্রিজে আসেন হৃদয়। শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। থারিন্দু রত্নায়েকের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসনের বার্তা দেন। এরপর ইশান মালিঙ্গার এক ওভারে টানা দুই ছক্কা মেরে ম্যাচের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। তবে সবচেয়ে বিধ্বংসী ছিলেন শেষ ওভারে। দাসুন শানাকার করা ইনিংসের শেষ ওভারে দুই ছক্কা, দুই চার ও দুই রান নিয়ে তোলেন ২২ রান। সেই ওভারেই মাত্র ২০ বলে পূর্ণ করেন নিজের ঝড়ো অর্ধশতক।

অন্য প্রান্তে সমান তালে রান তুলেছেন ওপেনার কামিল মিশারা। তিনি ৫৫ বলে ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৭টি ছক্কা। মিশারার সেঞ্চুরি আর হৃদয়ের বিস্ফোরক ফিনিশিংয়ে শেষ ২৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানের জুটি গড়ে জাফনা কিংস।

তাদের এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৪২ রান তোলে জাফনা কিংস। যা লংকা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের নতুন রেকর্ড। জাফনা কিংসের রেকর্ড গড়া ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তৌহিদ হৃদয় আবারও জানিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তার রয়েছে।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link