মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বিশাল জয়!

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়াকে রীতিমতো তুলোধোনা করে ছাড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মালয়েশিয়া গুটিয়ে গেল মাত্র ১৩৭ রানে, ৪০.৫ ওভারেই—ম্যাচের ফল যেন লেখা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়াকে রীতিমতো তুলোধোনা করে ছাড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মালয়েশিয়া গুটিয়ে গেল মাত্র ১৩৭ রানে, ৪০.৫ ওভারেই—ম্যাচের ফল যেন লেখা হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই।

দিনের শুরুতে ব্যাট হাতে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর লড়াকু ৯৪ রানের ইনিংসই ভিত গড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। ৫১ রানে ৪ উইকেট আর ১০০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল যখন খাদের কিনারায়, তখন আহরার আমিন পিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন আব্দুল্লাহ। নিচের দিকে নেমে ঝড় তোলেন শেখ পারভেজ জীবনও, মাত্র ১৮ বলে ৩৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি,ফলে দলের মোট সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯০ রান ৯ উইকেটে।। ব্যাট হাতে এই ঝলক দেখানোর পর বল হাতে যেন আরও ভয়ংকর রূপে ধরা দেন তিনি।

জবাব দিতে নেমে মালয়েশিয়ার ইনিংস শুরু থেকেই ছিল টালমাটাল। জীবনের স্পেলটাই ছিল ম্যাচের আসল গল্প—৭.৫ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট, ইকোনমি মাত্র ২.০৪। ব্যাট আর বল দুই বিভাগেই এমন সর্বজয়ী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচের সেরা কুশীলবের তকমাটা যেন নিজের নামেই লিখিয়ে নেন জীবন। মারুফ মৃধা আর স্বাধীন ইসলামও দুটি করে উইকেট নিয়ে চাপ বাড়িয়ে রাখেন। মালয়েশিয়ার ব্যাটিংয়ে একমাত্র সাইফ উল্লাহ মালিক আর সাইদ জুনায়েদ খান ছাড়া কেউ তেমন দাঁড়াতেই পারেননি।

শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করে দলটি। নবম উইকেটে আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলির সঙ্গে জুনায়েদের গড়ে ওঠা জুটিতে জুলকিফলি একাই করেন ৪২ রান, ছিল তিনটি ছক্কাও। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে—১২২ রানে নবম উইকেট পড়ার পর আর মাত্র ১৫ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় ইনিংস।

শেষ পর্যন্ত ১৫৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল—আব্দুল্লাহর ব্যাট, জীবনের অলরাউন্ড ঝলক, এই দুইয়ে মিলেই সম্পূর্ণ হলো এক দাপুটে জয়ের চিত্রনাট্য।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link