মাইকেল ক্যারিকের হাত ধরে থিয়েটার অব ড্রিমসে স্বপ্নেরা আবার ডানা মেলছে। ম্যানচেস্টার ফিরে পাচ্ছে তার ঐতিহ্যের সেই উজ্জ্বল রক্তিম আভা। রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর ছাইচাপা ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজকীয় আলোয় ফেরানো ক্যারিক ড্রেসিংরুমে আস্থার নতুন বীজ বুনেছেন। কিন্তু অল্ড ট্র্যাফোর্ডের সবুজ গালিচায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ট্যাকটিক্যাল ভঙ্গুরতা এখনও যেন এক অমোঘ, অলঙ্ঘনীয় নিয়তি।
ক্যারিকের ৪-২-৩-১ সিস্টেমে সাময়িক আক্রমণাত্মক ধার বাড়ালেও, ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে ভয়াবহ ফাঁক আর হাই লাইনের পেছনের জায়গা সামলানোর সমস্যা তৈরি হয়েছে। বড় মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে টিকতে হলে ক্যারিককে শুরুতেই এই কৌশলগত ভঙ্গুরতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। কারণ প্রতিপক্ষের কেবল একটা দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকই ইউনাইটেডের পুরো পরিকল্পনার ভিত ধসিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আমোরিমের তিন ব্যাকের জটিল কৌশল ঝেড়ে ফেলে ক্যারিক দলকে ৪-২-৩-১ ও ৪-৩-৩ এর প্রথাগত ছকে ফিরিয়ে এনেছেন। ব্রুনো ফার্নান্দেসকে কেন্দ্র করে সাজানো এই আক্রমণে মিডফিল্ড থেকে কোবি মাইনুর বল নিয়ে উপরে ওঠার সামর্থ্য দলকে নতুন গতি দিয়েছে।

নতুন মৌসুমের দলবদলে ক্যাসেমিরোর বিদায় এবং রাসমাস হজলুন্দের নাপোলিতে স্থায়ী দলবদলের পর, স্কোয়াড সাজাতে বড় পরিবর্তন এনেছেন ক্যারিক। মাঝমাঠে গতি ও ক্রিয়েটিভিটি বাড়াতে প্রায় ৪৮ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে তরুণ ব্রাজিলিয়ান অ্যান্ড্রি সান্তোসকে, এবং অ্যাস্টন ভিলা থেকে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ ইউরি তিলেমানসকে।
সেন্টার ব্যাক পজিশনে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, মাথিস ডি লিখট এবং লেনি ইয়োরোদের নিয়ে ভালো ভারসাম্য থাকলেও রক্ষণের অন্যান্য পজিশন কিছুটা অরক্ষিত। লুক শ ও দিয়োগো দালোদের ইনজুরি প্রবণতা এবং টাইরেল মালাসিয়া রিলিজ হওয়ায় ফুলব্যাক পজিশনে ব্যাকআপের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
ক্যারিকের সিস্টেমে দুই ফুলব্যাক আক্রমণের সময় অনেক উপরে উঠে খেলায় প্রতিপক্ষ বল ছিনিয়ে নেওয়া মাত্রই সেন্ট্রাল জোনে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়। ডাবল পিভটে কোবি মাইনুর সাথে অ্যান্ড্রি সান্তোস বা তিলেমানস জুটিতে কিছুটা গতি ফিরলেও, প্রথাগত একজন ডিফেন্সিভ ‘অ্যাঙ্করম্যান’ না থাকায় ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনের ফাটলটা একেবারে মিটে যায়নি।

বেঞ্চ স্ট্রেন্থের দিকে তাকালে দেখা যায়, নতুন খেলোয়াড়দের আগমনে মাঝমাঠে গভীরতা বাড়লেও মূল ফরোয়ার্ড বা ব্রুনো ফার্নান্দেসের বিকল্প হিসেবে বেঞ্চে গেম চেঞ্জার লেভেলের খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘ ও ব্যস্ত মৌসুমে মূল একাদশের কোনো ফুটবলার ইনজুরিতে পড়লে বেঞ্চ থেকে এসে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো শক্তি এখনও সীমিত।
মাইকেল ক্যারিক অল্ড ট্র্যাফোর্ডের সুদিনে আশার এক নতুন সুর বাজিয়েছেন সত্য, কিন্তু বাস্তবতা আর সম্ভাবনার ব্যবধান এখনও বেশ চওড়া। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে প্রবীণ ও অকার্যকর প্লেয়ারদের বিদায় দিয়ে তরুণদের ওপর বাজি ধরা হলেও, বড় ট্রফি জয়ের দীর্ঘ যাত্রায় সাফল্য অর্জিত হয় মাঠের সব পজিশনে সমান ভারসাম্য ও শক্ত বেঞ্চের ওপর ভিত্তি করে।











