চেন্নাইয়ের ‘কামব্যাক কারখানায়’ সরফরাজের নতুন জীবন!

গল টেস্টের আগে ভারতের স্কোয়াডে একটা নাম হঠাৎই আলো কেড়ে নিল—সরফরাজ খান। তবে এই প্রত্যাবর্তনের সুতো ধরে টান দিলে বেরিয়ে আসে দুটো গল্প, একটা মাঠের ভেতরের আর একটা মাঠের বাইরের—আর দুটো মিলেই তৈরি হয়েছে এই ফেরার আসল চিত্রনাট্য।

গল টেস্টের আগে ভারতের স্কোয়াডে একটা নাম হঠাৎই আলো কেড়ে নিল—সরফরাজ খান। তবে এই প্রত্যাবর্তনের সুতো ধরে টান দিলে বেরিয়ে আসে দুটো গল্প, একটা মাঠের ভেতরের আর একটা মাঠের বাইরের—আর দুটো মিলেই তৈরি হয়েছে এই ফেরার আসল চিত্রনাট্য।

সাই সুদর্শনের পায়ের আঙুলে স্ট্রেস রিঅ্যাকশন সরফরাজের সামনে দরজাটা খুলে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে ঢোকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হয়েছে অনেকদিন ধরে।

গত দেড় বছরে ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে, মুম্বাইয়ের বর্ষায় মাঠ না পেয়ে শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরিয়ে, লাল মাটির উইকেটে স্পিনের বিরুদ্ধে নিজেকে নতুন করে গড়েছেন তিনি। শ্রীলঙ্কায় স্পিন-বান্ধব উইকেট প্রত্যাশিত থাকায় নির্বাচকদের হিসেবেও তাই এগিয়ে গেছেন সরফরাজ—রিতুরাজ গায়কোয়াড় কিংবা শেখ রশিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেছনে ফেলে।

কিন্তু ফিটনেস আর ঘরোয়া প্রস্তুতির এই গল্পের পাশে আরেকটা ছবি না আঁকলে সরফরাজের প্রত্যাবর্তন অসম্পূর্ণ থেকে যায়—চেন্নাই সুপার কিংসের হলুদ জার্সি।

মাত্র ৭৫ লাখ রুপিতে দল পাওয়া সরফরাজ এবারের আইপিএলে ১৬৯.৪৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৬১ রান, আরসিবির বিপক্ষে ২৫ বলে ফিফটি আর পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১২ বলে ৩২—যেন প্রতিটি বলেই বলে দিচ্ছিলেন, তিনি সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকা কেউ নন।

চেন্নাইয়ের এই গল্প নতুন নয়। ২০০৮ সালে জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া সুরেশ রায়না চেন্নাইয়ের হয়ে ১৪২.৭১ স্ট্রাইক রেটে ৪২১ রান করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলেন, তারপর ফিরেছিলেন ভারতের সাদা বলের দলে। পিঠের চোটে ক্যারিয়ার প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া লক্ষ্মীপতি বালাজি বোলিং অ্যাকশন বদলে চেন্নাইয়ের জার্সিতে গড়েছিলেন আইপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক, চার বছর পর ফিরেছিলেন শ্রীলঙ্কা সফরে।

আশিস নেহরা ৩৬ বছর বয়সে, চোটে ভাঙাচোরা শরীর নিয়ে, ২০১৫ সালে ১৮.৫৪ গড়ে ২২ উইকেট নিয়ে ফিরেছিলেন টি-টোয়েন্টি দলে, তারপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতেছিলেন সিরিজ। অম্বাতি রাইডু, আজিংকা রাহানে, শিভাম দুবে—প্রত্যেকের গল্পে একই সুর।

এমনকি ২০২৫ সালে অবিক্রিত থেকে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও চেন্নাইয়ের ছোঁয়ায় ১৮০ স্ট্রাইক রেটে ফিরে পেয়েছিলেন হারানো ছন্দ। চেন্নাইয়ের এই রহস্য তাই জাদুর নয়, বিশ্বাসেরা।

যে ক্রিকেটারের মূল্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে, তাকে একটা নির্দিষ্ট ভূমিকায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া, তারপর পারফরম্যান্সকেই বাকি গল্পটা লিখতে দেওয়া—এই সূত্রেই একের পর এক ক্যারিয়ার নতুন জীবন পেয়েছে হলুদ জার্সিতে। সরফরাজের টেস্ট প্রত্যাবর্তন তাই এই দীর্ঘ যাত্রার শেষ বিন্দু নয়। প্রশ্ন থেকেই যায়—চেন্নাইয়ের এই কামব্যাক কারখানায় পরের নামটা কার হবে?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link