বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উইকেটে যখন একের পর এক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন ক্রিজে হেঁটে এলেন এক আঠারো বছরের তরুণ—হাতে ব্যাট, চোখে জেদ। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামটা এতদিন পরিচিত ছিল শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যানপ্রেমীদের কাছে। আজ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই নামটাই হয়ে উঠল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সংকটমোচনের ভরসা।
৫১ রানেই সাজঘরে ফিরেছিলেন চারজন, ১০০ রানের মাথায় নেই পাঁচ উইকেট—এমন ধসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ইনিংস তখন খাদের কিনারায়। ঠিক এই মুহূর্তে আহরার আমিন পিয়ানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ। পিয়ান নিজে ৬২ রানে আউট হয়ে ফিরলেও আব্দুল্লাহ তখনও ক্রিজে অবিচল, যেন ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গাছ। এরপর মাহফুজুর রহমান রাব্বিকে সঙ্গী করে এগিয়ে যান আরও খানিকটা পথ, শেষমেশ ১০০ বলে ৯৪ রানে থামেন তিনি। সেঞ্চুরি ফসকে যাওয়ার আক্ষেপ থাকতেই পারে, কিন্তু দল যখন ভরাডুবির মুখে তখন তিনি একাই টেনে নিয়ে গেছেন যার ফলে মালয়েশিয়াকে ২৯১ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
এই ইনিংসটা হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা প্রতিভার গল্প নয়। ভোলায় জন্ম নেওয়া বাঁহাতি এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান এ বছরের শুরুতেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। মে মাসে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে লিস্ট-এ অভিষেকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন—ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে ১২৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের সেই ইনিংসে দল হারলেও আব্দুল্লাহর ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছিল প্রথম লিস্ট-এ সেঞ্চুরি। এরপর অগ্রানি ব্যাংকের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচে করেছিলেন ৮৭ রান, দলকে জিতিয়েছিলেন লক্ষ্য তাড়া করে।
এই প্যাটার্নটাই যেন আব্দুল্লাহর পরিচয় হয়ে উঠছে—দল যখন চাপে, তখনই ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান তিনি, ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের প্রয়োজনটাকেই বড় করে দেখেন। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আজকের ৯৪ রানের ইনিংসটাও সেই একই সুতোয় গাঁথা।
এখন প্রশ্ন একটাই—ঘরোয়া ক্রিকেটে বারবার সংকটে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠা এই তরুণ কি একদিন জাতীয় দলের জার্সিতেও একই ভরসার নাম হয়ে উঠবেন?












