সিংহাসনে বসার চেয়ে সেটা রক্ষার করা কঠিন। সেই কঠিন মিশনটা অধিনায়ক বাবর আজমের জন্য শুরু হতে যাচ্ছে এবার। ব্রিটিশ কন্ডিশনেই সত্যিকারের পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও টেস্ট অধিনায়কত্বে ফিরেছেন বাবর আজম। কিন্তু ফিরে আসার গল্পটা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে পাকিস্তান পেয়েছে স্বস্তির নি:শ্বাস, আর নেতৃত্বে ফেরার প্রথম পরীক্ষায় বাবরও পেয়েছেন কিছুটা আত্মবিশ্বাস। এবার সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় মঞ্চ।
১৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। আর এই সিরিজেই বাবরের সামনে বড় প্রশ্ন—বিদেশের মাটিতে তার নেতৃত্বের ভালো রেকর্ড কি এবার বড় দলগুলোর বিপক্ষেও সাফল্যে রূপ নেবে?

অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে বাবরের রেকর্ড যথেষ্ট শক্তিশালী। ১২ টেস্টে ৯ জয়—পরিসংখ্যানটাই বলে দেয়, ঘরের বাইরে দলকে নেতৃত্ব দিতে তিনি অস্বস্তিতে থাকেন না। বরং ভিন্ন কন্ডিশনে দলকে জেতানোর সামর্থ্য বাবর আগেও দেখিয়েছেন।
কিন্তু গল্পের অন্য দিকটাও আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চার বিদেশি কন্ডিশন। আর এই চার দেশের মাটিতে অধিনায়ক বাবরের টেস্ট জয় এখনো অধরা। এবার সামনে সেই তালিকারই একটি দেশ—ইংল্যান্ড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে পাকিস্তান আট ম্যাচ পর দেশের বাইরে টেস্ট জয়ের দেখা পেয়েছে। শেষ ম্যাচে ৮ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফেরে দলটি। রান তাড়ায় অপরাজিত অর্ধশতক করে বাবরও ছিলেন জয়ের অংশীদার। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর নেতৃত্বে ফিরে প্রথম ধাক্কাটা সামলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই ইংল্যান্ডে যাচ্ছে পাকিস্তান।

তবে ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ আলাদা। লিডসের হেডিংলি থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজে বাবরকে একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব সামলাতে হবে—অধিনায়ক হিসেবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ব্যাট হাতে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে ওঠা।
আর এবার ইংল্যান্ডও নতুন অধ্যায়ে। জো রুট আবার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ফিরেছেন। ফলে দুই দলের নেতৃত্বেই এসেছে বড় পরিবর্তন।
বাবরের জন্য তাই এই সিরিজটা কেবল আরেকটি বিদেশ সফর নয়। দীর্ঘদিন পর ফিরে পাওয়া নেতৃত্বকে স্থায়ী সাফল্যে পরিণত করার সুযোগ এটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পাওয়া আত্মবিশ্বাস এবার যদি ইংল্যান্ডের মাটিতেও কাজে লাগে, তাহলে অধিনায়ক বাবরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতার একটি মুছে যেতে পারে।

বিদেশে জেতার সামর্থ্য বাবর আগেই দেখিয়েছেন। এবার প্রশ্নটা আরও কঠিন—
ইংল্যান্ডের মাটিতে কি সেই জয়টা এনে দিয়ে নিজের নেতৃত্বের অপূর্ণ গল্পটাও বদলে দিতে পারবেন বাবর আজম?











