মাদ্রিদীয় শাসনকাল পুনরুদ্ধারের যুদ্ধ

একদল সদ্য কেনা উড়ন্ত গ্যালাকটিকো তারকা আর ডাগআউটে স্বমহিমায় ফিরে আসা 'দ্য স্পেশাল ওয়ান' হোসে মরিনহো - সব মিলিয়ে মাদ্রিদের ক্যানভাসে এখন এক বিশাল নাটকীয়তার মঞ্চ প্রস্তুত।

রিয়াল মাদ্রিদ কখনো শুধু জয়ের জন্য খেলে না, তারা খেলে ইতিহাস শাসনের জন্য। তবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর বাতাস এক অদ্ভুত শিহরন আর অনিশ্চয়তায় ভারী হয়ে আছে। একদল সদ্য কেনা উড়ন্ত গ্যালাকটিকো তারকা আর ডাগআউটে স্বমহিমায় ফিরে আসা ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ হোসে মরিনহো – সব মিলিয়ে মাদ্রিদের ক্যানভাসে এখন এক বিশাল নাটকীয়তার মঞ্চ প্রস্তুত।

​মরিনহোর ফুটবল দর্শনের মূল ভিত্তি হলো সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ শেপ, সংকুচিত লো ব্লক এবং বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাক। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান মূল শক্তি হলো পজেশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষের অর্ধে আক্রমণ সাজানো।

কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং জুড বেলিংহামের মতো মুক্ত স্বভাবের তারকাদের মরিনহো কীভাবে তাঁর কঠোর রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালনে বাধ্য করেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব। উইঙ্গাররা সঠিক সময়ে নিচে নেমে প্রেস না করলে প্রতিপক্ষের উইং ব্যাকরা খুব সহজেই ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাবে, যা মাদ্রিদের হাই লাইন ডিফেন্সকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।

ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পে – উভয়েই বাম প্রান্ত ব্যবহার করে বক্সে কাট-ইন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই পজিশনাল অভ্যাসের কারণে দুইজন এক সাথে মাঠে থাকলে বাম পাশের হাফ স্পেস নিয়ে সমস্যা হয়, যার খেসারত হিসেবে ডান উইংয়ে দলের আক্রমণাত্মক ধার একেবারেই কমে যায়।

এর কৌশলগত সমাধান হতে পারে এমবাপ্পেকে প্রথাগত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলিয়ে ভিনিসিয়াসকে ওয়াইড এরিয়ায় ফ্ল্যাঙ্ক স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করা, তবে এতে এমবাপ্পের স্বাভাবিক ড্রপ ডাউন মোশন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচ পরবর্তী যুগে মাঝমাঠের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা মাদ্রিদের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্নার্দো সিলভার অন্তর্ভুক্তি এই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ হলেও মাঠের বাস্তবতায় জটিলতা রয়েই গেছে। কামাভিঙ্গা ও চুয়ামেনির মতো ডিফেন্সিভ স্ক্রিনাররা প্রতিপক্ষের কাউন্টার সামলাতে গিয়ে যদি ধীরগতির পরিচয় দেন, তবে বার্নার্দো সিলভার বাড়ানো ক্রিয়েটিভ পাসগুলো কার্যকারিতা হারাবে। আবার ভালভার্দে যদি অতিরিক্ত ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলায় আটকা পড়েন, তবে তাঁর স্বভাবজাত বক্স-টু-বক্স ফ্রি রানগুলো বাধাগ্রস্ত হবে।

রক্ষণের দেয়াল এবার প্রায় পুরোপুরি নতুন ইটে গাঁথা হয়েছে। লিভারপুল থেকে ইব্রাহিমা কোনাতে, ইন্টার মিলান থেকে দেঞ্জেল ডামফ্রিস এবং চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়া বার্নাব্যুতে পা রেখেছেন। রুডিগার ও মিলিতাওদের সাথে এই নতুন সেনাদের দ্রুত রসায়ন গড়ে তোলা জরুরী।

আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তার এই উত্তাল সমুদ্রে বার্নাব্যুর তরী কোনো নিরাপদ কূল পাবে কি না, সে প্রশ্ন হয়তো থেকেই যায়। তবে ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে যে কান্ডারি হাল ধরেছেন, তিনি তো হোসে মরিনহো। প্রতিকূলতার আগুনে পুড়েই যিনি নিজের স্বর্ণালী ইতিহাস খোদাই করতে ভালোবাসেন, চ্যালেঞ্জ যাঁকে কাবু করে না বরং নতুন করে জ্বালিয়ে তোলে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link