অজিদের কামানের সামনে ঢাল মিরাজ-হাসান, শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ!

ডারউইনের আকাশে যখন আলো কমে আসছিল, তখনও ২২ গজে আগুন জ্বালিয়ে রাখলেন হাসান মাহমুদ আর মেহেদী হাসান মিরাজ। মাররা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১/৬, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।

ডারউইনের আকাশে যখন আলো কমে আসছিল, তখনও ২২ গজে আগুন জ্বালিয়ে রাখলেন হাসান মাহমুদ আর মেহেদী হাসান মিরাজ। মাররা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১/৬, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।

সকালের সেশনটা ছিল স্বস্তির, মুমিনুল হকের ৪৯ রানের আক্ষেপ ছাড়া তেমন কোনো ধাক্কা লাগেনি। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি আর নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে ভর করে দুর্দান্ত এগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশন শেষ হতে না হতেই নতুন বলের সামনে যেন ধসে পড়ল পুরো ব্যাটিং লাইনআপ।

৮৪ রানে ফিরলেন শান্ত, লিটন দাস আউট হলেন শূন্য রানে, আর একুশ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে নামা মুশফিকুর রহিম থামলেন ৩৬ রানে। সিরিজ শুরুর আগে যে টপ অর্ডার নিয়ে এত শঙ্কা ছিল, তারাই হাল ধরার সামর্থ্য দেখিয়েছে। অথচ যে মিডল অর্ডারের কাছ থেকে বড় সংগ্রহের প্রত্যাশা ছিল, নতুন বলের তোপ আর স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে তারাই খেই হারাল।

এরপরই যেন গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন হাসান মাহমুদ। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া এই পেসারই ব্যাট হাতে দিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত লড়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে। মিরাজকে সঙ্গী করে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অস্ট্রেলিয়ার সব কামান-গোলাবারুদের বিপক্ষে।

দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের। মাঝে অস্ট্রেলিয়া নৌকা তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল বটে, কিন্তু মিরাজ আর হাসানের অবিচলতায় শেষ পর্যন্ত দিনটা রয়ে গেল সফরকারীদের দখলেই। দিনের শেষ বলে মিরাজের ক্যাচ ফসকে অস্ট্রেলিয়া যেন দেখল আরও একটা দুর্ভাগ্যের ছাপ।

অপরাজিত থেকে দিন শেষ করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে, দুজনের জুটি এখন ৪৩ রানের। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত দুটি সেশন নিজেদের করে নেওয়া, আর অস্ট্রেলিয়া চাইবে প্রথম সেশনেই ব্যাটিংয়ে নামতে। সেই লড়াইয়ে কে এগিয়ে যায়, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link