কখনো স্কয়ার লেগের ট্রেডমার্ক ফ্লিক, কখনো বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্যাচ তালুবন্দী করে দেশকে শিরোপা জয়ের মুহূর্ত উপহার দেওয়া—এমন সব দৃশ্যের দিকে ফিরে তাকালেই ক্রিকেটমোদীরা যে নামটা সবার আগে উচ্চারণ করেন, তা হলো রমিজ রাজা।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে পাকিস্তানি ক্রিকেট যখন বিতর্ক, স্ক্যান্ডাল আর সমালোচনার ঝড়ে নিয়মিত বিপর্যস্ত, তখন আভিজাত্য ও সততার এক অনন্য মেলবন্ধন নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হন ১৯৬২ সালের ১৪ আগস্ট ফয়সালাবাদে জন্মানো এই ওপেনার।
ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে প্রতিটি শটে রমিজ রাখতেন পরিশীলিত আভিজাত্যের ছাঁপ। টেস্ট ক্রিকেটে খুব বেশি রান না পেলেও, ওয়ানডে ফরম্যাটে রমিজ ছিলেন দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ। বিশেষ করে ১৯৯২ বিশ্বকাপে তাঁর জোড়া সেঞ্চুরি আর ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ উইনিং ক্যাচের দৃশ্য মনে করলে পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্তরা আজও মোহিত হয়ে যান! ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপেও নজর কাড়েন তিনি।

১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে ৫৭ টেস্টে ২৮৩৩ এবং ১৯৮ ওয়ানডেতে ৫৮৪১ রান করেন তিনি। অবসর নেওয়ার পরও ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাননি এই ডানহাতি ব্যাটার। ধারাভাষ্যকার হিসেবে স্কাই স্পোর্টসের মতো মিডিয়ায় প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে নিজেকে অনন্য অবস্থানে নিয়ে যান দেশের হয়ে ওয়ানডেতে নয় সেঞ্চুরির মালিক এই ওপেনার।
এখানেই শেষ নয়! পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। সেসময়ে তিনি পাকিস্তান-ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বরফ গলাতে গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। পরে ক্রিকেটের প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে ফের মিডিয়ায় থিতু হলেও ২০২১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান সরকার পিসিবির চেয়ারম্যানের কর্তব্য কাঁধে তুলে দেয় রমিজের।
কিন্তু নতুন দায়িত্বে খুব বেশিদিন থাকার সুযোগ হয়নি তাঁর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ইংল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে নজিরবিহীনভাবে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পিসিবিতে অবসান ঘটে রমিজ অধ্যায়ের। সেসময়ে পাকিস্তানের হোম পিচ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেও সমালোচিত হন তিনি।

তবু ক্রিকেটের ইতিহাসে রমিজ রাজাদের মতো তারকাদের খাটো করে দেখার পক্ষপাতী নন ক্রিকেটবোদ্ধারা। ক্রিজে অভিজাত পারফর্ম্যান্স, কমেন্টারি বক্সে দক্ষ ধারাভাষ্য কিংবা প্রশাসনিক কাজের মধ্য দিয়ে বহুমাত্রিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন পাকিস্তানের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাই তাঁকে ক্রিকেটাঙ্গনে স্বকীয় পরিচয় এনে দিয়েছে!










