চমকে দেওয়া মালয়েশিয়া শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল না। টানা দুই ম্যাচে পারভেজ জীবনের ফাইফার নেওয়ার কীর্তি আর আহরার আমিন পিয়ান-দেবাশিস সরকার জুটি বাঁচিয়ে দিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে। বোলিং এবং ব্যাটিং শুরুতে দুই দিকেই আসলেও সেটা সামলে নিয়েছে বাংলাদেশ, তিন উইকেটের জয় নিয়েই ছেড়েছে মাঠ।
শুরুতে ব্যাট করতে নামা মালয়েশিয়া যেন একটু চমক দেখাল। ওপেনিং জুটি থেকেই তুলে নেয় ৮৯ রান। অবশ্য মূল কারিগর আসলাম খান মালিক। অনবদ্য সেঞ্চুরি আসে তাঁর ব্যাট থেকে। আগ্রাসী ব্যাটিং রীতিমতো ভয় ধরিয়েছে বাংলাদেশের মনে।
বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিল মালয়েশিয়া। তবে ১০০ করা আসলামের বিদায়ের পর সবকিছু যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মোমেন্টাম হারানো তো বটেই, আর কোনো ব্যাটারই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি প্রতিপক্ষের সামনে। শেষমেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭৭ রানেই।

অবশ্য এখানে বাংলাদেশের নায়ক একজন আছেন। প্রথম ওয়ানডেতে ফাইফার তুলে নিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস ছিল নামের পাশে। এই ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। শুধু ধারাবাহিকতার কথা টানলে কমই বলা হবে। আগের ম্যাচের পারফরম্যান্সটাই কপি-পেস্ট করেছেন। অর্থাৎ আরও এক ফাইফার। আট ওভারে ২৩ রানের বিনিময়ে শিকার করেছেন পাঁচ উইকেট।
১৭৮ রানের লক্ষ্য। বাংলাদেশের জন্য আহামরি কিছু হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে শুরুতে চমক দেখানোর কাজটা বল হাতেও করেছেন মালয়েশিয়া। দুই রানে বাংলাদেশের দুই ব্যাটারকে ফিরিয়েছে। ৫৮ রানের মধ্যেই বাংলাদেশ হারিয়ে বসে পাঁচ উইকেট। জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দেয় মালয়েশিয়ার সামনে।
সেখানেই বাংলাদেশ বাঁচিয়ে তোলে আহরার আমিন পিয়ান এবং দেবাশিস সরকার জুটি। দুজনে দুই প্রান্ত নিজেদের দখলে নিয়ে নেন। দেখেশুনে মোকাবিলা করতে থাকেন মালয়েশিয়া বোলারদের। তখন যে ভুল করার কোনো সুযোগ ছিল না বাংলাদেশের সামনে। পা ফসকালেই হারতে হবে ম্যাচ। তবে ভুল আর হয়নি।

৪১ বলে ৫৮ রান করে দেবাশিস ফিরে যান সাজঘরে। ততক্ষণে বাংলাদেশকে একেবারে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন। বাকি কাজটা শেষ করেন পিয়ান। তুলে নেন ফিফটি। হার না মানা ৫৭ রানের ইনিংস খেলে তিন উইকেটে দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন। আর মালয়েশিয়ার সামনে একটা জয় অধরাই দেখে গেল।
Share via:










