টেস্টের জন্য লিটন অপরিহার্য!

তিন ইনিংসের ব্যর্থতা দিয়ে লিটন দাসকে বিচার করাটা বোকামি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন লিটন। টেস্ট ক্যারিয়ারের সাত নম্বর শতক হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি টেস্টের জন্য অপরিহার্য।

তিন ইনিংসের ব্যর্থতা দিয়ে লিটন দাসকে বিচার করাটা বোকামি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন লিটন। টেস্ট ক্যারিয়ারের সাত নম্বর শতক হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি টেস্টের জন্য অপরিহার্য। লিটন বাংলাদেশের হাতে থাকা এমন এক অস্ত্র, যিনি মুহূর্তেই ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলবেন প্রতিপক্ষকে, দলের বিপদে লিটনই হবেন শেষ ভরসা।

লিটনের সবচেয়ে বড় ইউএসপি, তিনি এক লহমায় ম্যাচের গতিপথ বদলে দেবেন। দল যদি ভালো অবস্থানে থাকে, তবে ম্যাচটাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবেন। আবার দলের ঘোরতর বিপদ দেখলে ইনিংস বিল্ডআপ করবেন, প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলবেন। সেটা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা কমবেশি সব দেশই টের পেয়েছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশ যে সাদা পোশাকে উন্নতি করছে, সেটার নেপথ্যে লিটনের অবদানও তাই কম নয়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটো চিত্রই দেখিয়েছেন লিটন। প্রথম ম্যাচে ওপেনিং জুটি থেকে দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। ১৮৪ রান পর্যন্ত এক উইকেট হারানো দলটার ব্যাটিং অর্ডার হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। ২২৫ রানে পাঁচ উইকেট হারানো অবস্থা থেকে লিটন উদ্ধার করেন দলকে। এ তো গেল টিপিক্যাল ক্রাইসিস ম্যান লিটনের গল্পে। পরের ইনিংসে তিনি ধারণ করলেন নিজের দ্বিতীয় চরিত্র।

২১২ রানের মাথায় ক্রিজে এলেন। তখন বাংলাদেশের লক্ষ্য দ্রুত রান তোলা। এই কাজ লিটনের চেয়ে ভালো কে পারে? চতুর্থ দিনের শুরুতেই তাই আফগান বোলারদের ম্যাচ বের করে দিলেন। চড়াও হলেন, দ্রুত রান বের করে দুই-তিন ওভারেই মেন্টালি ডাউন করে দিলেন প্রতিপক্ষকে। ব্যস, কাজটা শেষ।

অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে আফগানিস্তানের চোখেমুখে। একের পর এক ক্যাচ মিস, রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া, বোলারদের লাইন-লেংথ এলোমেলো, এসবই যে তার প্রমাণ। ১০২ রানের অনবদ্য ইনিংস এসেছে, ব্যাট করেছেন ৮৭ স্ট্রাইক রেটে। এটাই তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার বোঝাতে যথেষ্ট।

যেখানে চেয়েছেন, সেখানেই শট খেলেছেন। কাভার ড্রাইভ, স্ট্রেট ড্রাইভ, কাট—ক্লাসিক্যাল লিটনের আদর্শ রূপ যাকে বলে। তবে চাঁদের কলঙ্ক হিসেবে জীবনও পেয়েছেন। ৬৭ রানের মাথায় তো আউট হয়েও বেঁচে গেছেন। তবে সব ছাপিয়ে আরও একবার ওই কথাটাই বলতে হয়, লিটন টেস্ট দলের সম্পদ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম

দীর্ঘ বিরতির পর ক্রিকেটের আভিজাত্যমণ্ডিত এই সংস্করণে রেনশোর প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল গত আগস্টেই, বাংলাদেশের বিপক্ষে! তাও আবার অজিদের উদ্বোধনী ব্যাটিংয়ের সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যেই। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধান পেরোনোর আগেই অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হয়ে উঠলেন এই অজি ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে যেমন আবির্ভূত হয়েছিলেন দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে, দ্বিতীয় ইনিংসেও যেন তারই পুনরাবৃত্তি! প্রথম ইনিংসে একের পর এক ব্যাটারের সাজঘরে প্রত্যাবর্তনের মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩৯০ রানে উন্নীত করতে রেখেছিলেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা, খেলেছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ১৯০ রানের অনবদ্য ইনিংস। ঠিক তেমনই এই ইনিংসেও সাজঘরে ফেরার আগে রেনশো তুলে নিলেন ৮২ রান!

Share via
Copy link