বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন কিছু আগে কখনো হয়নি। লিটন দাস একই টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন, আবার উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ৮টি ডিসমিসালও করেছেন। ব্যাট হাতে শতক আর গ্লাভস হাতে আটটি শিকার, এই দুইয়ের মিল আর কোনো বাংলাদেশি উইকেটকিপার-ব্যাটারের নামের পাশে নেই।আর এর সাথে লিটন এখন ঢুকে পড়লেন বিশ্ব ক্রিকেটের এলিট উইকেটকিপার-ব্যাটারদের ছোট্ট একটা তালিকায়।
এতদিন একই ম্যাচে বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল খালেদ মাসুদ পাইলটের দখলে। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন, পাঁচটি ক্যাচ আর দুটি স্টাম্পিং। দীর্ঘ বিশ বছরের পুরোনো সেই সংখ্যাটা লিটন ছাড়িয়ে গেলেন, সঙ্গে সেঞ্চুরিটাও জুড়ে দিলেন। ডিসমিসালগুলো যেভাবে করেছেন, সেটাও দেখার মতো ছিল।ক্ষিপ্র গতিতে ঝাপ দিয়ে ক্যাচ ধরা, দুর্দান্ত গতি আর অ্যাথলেটিসিজম মিলিয়ে পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি ছিলেন আলাদা এক মাত্রায়।
এই সেঞ্চুরির সঙ্গে আরেকটা কীর্তিও যোগ হয়েছে। টেস্টে উইকেটকিপার হিসেবে সেঞ্চুরির তালিকাতেও লিটন এখন মহেন্দ্র সিং ধোনি আর কুইন্টন ডি ককদের পাশে বসলেন। টেস্টে এটি তাঁর ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, ধোনি আর ডি ককেরও টেস্ট সেঞ্চুরি ছয়টি করে। যে দুই কিপার-ব্যাটার নিজের দেশের ক্রিকেটে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে এক সারিতে নাম লেখানো সহজ কিছু নয়।

আর টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ডিসমিসাল কার, সেই প্রশ্ন তুললে নাম আসবে একজনেরই, এবি ডি ভিলিয়ার্স। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তিনি করেছিলেন একই ম্যাচে সেঞ্চুরি এবং হাফ সেঞ্চুরি আর উইকেটের পেছনে নিয়েছিলেন ১১টি ডিসমিসাল। ব্যাটিং আর কিপিংয়ের এমন যুগলবন্দি ক্রিকেট ইতিহাসে আর দেখা যায়নি।
মজার ব্যাপার হলো, লিটনের সামনে সেই রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ এখনো খোলা আছে। ম্যাচ বাকি, আর আটে দাঁড়িয়ে থাকা সংখ্যাটাকে এবির জায়গায় নিতে লাগবে আর মাত্র ৩টি ক্যাচ বা স্টাম্পিং। চারটি হলে তো বিশ্ব রেকর্ডই ভেঙে নতুন নামটা বসবে লিটন দাসের। সুযোগ আছে, কিন্তু কাজটা সহজ নয়। এর জন্য দরকার বোলারদের লাইন-লেংথ ঠিক থাকা, ব্যাটারদের ব্যাটে বল লাগা বা স্টাম্পিং করা আর লিটনের গ্লাভসে একটাও ভুল না হওয়া। তবে এই ম্যাচে তিনি যে ছন্দে আছেন, তাতে আশা করাটা বাড়াবাড়ি হবে না। একজন বাংলাদেশি কিপারের নাম এবি ডি ভিলিয়ার্সের পাশে লেখা হওয়ার এত কাছে এসে দাঁড়ানোটাই এখন বড় খবর।











