দুই দশকের পুরোনো রেকর্ড কি এবার ভাঙবে?

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখনো মাশরাফি বিন মর্তুজার, উইকেট সংখ্যা ৭৮টি। সংখ্যাটা বড় কিছু মনে না হতে পারে, কিন্তু এর পেছনের গল্পটা জানলে বোঝা যায় কেন এত বছরেও কেউ তাঁকে ছুঁতে পারেননি।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখনো মাশরাফি বিন মর্তুজার, উইকেট সংখ্যা ৭৮টি। সংখ্যাটা বড় কিছু মনে না হতে পারে, কিন্তু এর পেছনের গল্পটা জানলে বোঝা যায় কেন এত বছরেও কেউ তাঁকে ছুঁতে পারেননি। মাশরাফি যখন এসেছিলেন, বাংলাদেশ ছিল পুরোপুরি স্পিননির্ভর একটা দল। পেস বোলিং বলতে সেখানে তেমন কিছুই ছিল না, আর সেই জায়গায় গতির আশা নিয়ে এসেছিলেন এই তরুণ। কিন্তু চোট তাঁকে একের পর এক ধাক্কা দিয়েছে। বছরের পর বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে, গতি কমেছে, একসময় টেস্ট দল থেকেই বাদ পড়েছেন। মাত্র ৩৬টি টেস্টে ৭৮ উইকেট, সুস্থ থাকলে সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, সেই হিসাব কষা এখন শুধুই কল্পনা। অথচ এত বছর পরও রেকর্ডটা কেউ ছুঁতে পারেননি। এখন প্রশ্ন একটাই, কোন পেসার আগে তাঁকে ছাড়িয়ে যাবেন।

সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তাসকিন আহমেদ। ২১ টেস্টে তাঁর উইকেট ৫৯, মাশরাফিকে ছাড়াতে লাগবে আর ২০টি। ইনজুরি আর ফর্মহীনতায় অনেকবার দলের বাইরে থাকার পরও ফিরে এসেছেন, আর এখন পেস আক্রমণের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ তিনিই। ম্যাচপ্রতি তাঁর গড় প্রায় ২.৮ উইকেট, এই হারে চললে সাত-আট টেস্টেই কাজটা হয়ে যাওয়ার কথা। তবে বয়স ৩১, আর চোট এখনো তাঁর পিছু ছাড়েনি।

হাসান মাহমুদ আর এবাদত হোসেন দুজনেই আছেন ৫১ উইকেটে, কিন্তু দুজনের গতি আলাদা। হাসান ১৭ টেস্টেই পঞ্চাশ উইকেট ছুঁয়েছেন, বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে যা সবচেয়ে দ্রুত। ম্যাচপ্রতি তাঁর গড় ঠিক ৩ উইকেট। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেট, আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, আর চার দেশের চার রকম কন্ডিশনে ফাইফার, সব মিলিয়ে তিনি এখন ফর্মের চূড়ায়। বয়স মাত্র ২৬, তাই সময়ও তাঁর পক্ষে। এবাদত খেলেছেন ২৬ টেস্ট, ম্যাচপ্রতি উইকেট দুইয়ের কাছাকাছি। বয়সেও তিনি কিছুটা এগিয়ে, তাই হাসানের তুলনায় তাঁর হাতে সময় কম।

শরিফুল ইসলামের উইকেট ১৪ টেস্টে ৩৪। মাকায় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি সবার নজর কেড়েছেন, বয়সও মাত্র ২৫। কিন্তু মাশরাফির রেকর্ড থেকে তিনি এখনো অনেক দূরে, আরও ৪৫ উইকেট দরকার। আবুধাবি টেস্টে তাঁকে বাইরে রাখা হয়েছে, তাই দলে নিয়মিত জায়গা পাকা করাটাই আগে তাঁর চ্যালেঞ্জ।

নাহিদ রানার হিসাব টা সবচেয়ে মজার। তিনি খেলেছেন মাত্র ১২ টেস্ট, উইকেট ৩৮ টি, ম্যাচপ্রতি গড় ৩.১৭, যা এই দৌড়ের সবার চেয়ে ভালো। বয়স  মাত্র ২৩, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় বোলার। কিন্তু চোটের কারণে এখন তিনি স্কোয়াডের বাইরে, আর মাশরাফির রেকর্ড থেকে তাঁর দূরত্ব ৪০ উইকেটের।

আগামী এক বছরে বাংলাদেশের সামনে অনেকগুলো টেস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত আর ইংল্যান্ড সফরসহ। এই সূচিতে কে আগে পৌঁছাবেন, তা নির্ভর করছে মূলত ফিটনেসের ওপর। হাতে কাগজে তাসকিন এগিয়ে, কিন্তু হাসানের গতি আর বয়স দুটোই তাঁকে এই দৌড়ে সবচেয়ে বড় দাবিদার করে তুলেছে। মাশরাফি যে রেকর্ড গড়েছিলেন চোটের সঙ্গে লড়াই করতে করতে, সেটা ভাঙার সবচেয়ে বড় শর্তও সেই চোট এড়িয়ে চলা।

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম

দীর্ঘ বিরতির পর ক্রিকেটের আভিজাত্যমণ্ডিত এই সংস্করণে রেনশোর প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল গত আগস্টেই, বাংলাদেশের বিপক্ষে! তাও আবার অজিদের উদ্বোধনী ব্যাটিংয়ের সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যেই। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধান পেরোনোর আগেই অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হয়ে উঠলেন এই অজি ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে যেমন আবির্ভূত হয়েছিলেন দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে, দ্বিতীয় ইনিংসেও যেন তারই পুনরাবৃত্তি! প্রথম ইনিংসে একের পর এক ব্যাটারের সাজঘরে প্রত্যাবর্তনের মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩৯০ রানে উন্নীত করতে রেখেছিলেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা, খেলেছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ১৯০ রানের অনবদ্য ইনিংস। ঠিক তেমনই এই ইনিংসেও সাজঘরে ফেরার আগে রেনশো তুলে নিলেন ৮২ রান!

Share via
Copy link