গোলবন্যার ম্যাচে এলএএসকে-কে উড়িয়ে দিল লিভারপুল

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে লিন্ঝের মাঠে গোলের মহোৎসব দেখল ফুটবল বিশ্ব। ঘরের মাঠে চালকের আসনে বসার আশা নিয়ে নামা এলএএসকে-কে ৬-৩ ব্যবধানে উড়িয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতে লিন্ঝের মাঠে গোলের মহোৎসব দেখল ফুটবল বিশ্ব। ঘরের মাঠে চালকের আসনে বসার আশা নিয়ে নামা এলএএসকে-কে ৬-৩ ব্যবধানে উড়িয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে লিভারপুল। ডিফেন্সিভ কাঠামোর নিরিখে ম্যাচটিতে গোলের জোয়ার বইলেও মাঠের কৌশলগত খেলায় লিভারপুলের সুনির্দিষ্ট প্রাধান্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

খেলার শুরু থেকেই পজিশনভিত্তিক আক্রমণ এবং সেট-পিসের কার্যকারিতায় প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে অলরেডসরা। কোস্টাস সিমিকাসের নিখুঁত কর্নার থেকে ম্যান-মার্কিংয়ের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হেডে দলকে এগিয়ে নেন রোনাল্দ আরাউহো।

এর পরপরই লিভারপুলের কাউন্টার ট্রানজিশনের সেরা রূপ দেখা যায়, যেখানে ব্র্যাডলে বারকোলা ও লুইস কৌমাসের বোঝাপড়ায় ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। হাফ-স্পেস বা প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা দখলে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ ছিলেন অনবদ্য। তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বিরতির আগেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন বারকোলা।

দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই উইং ব্যাক ওভারল্যাপিংয়ের সুফল পায় লিভারপুল। সিমিকাসের দূরপাল্লার মাপা ক্রসে ফাঁকা পকেটে রান নিয়ে চমৎকার ডাইভিং হেডে গোল করেন জেরেমি ফ্রিম্পং। এরপর ফ্রিম্পংয়ের দ্রুতগতির উইং রান ও বক্সের ভেতরের কাটব্যাক থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বারকোলা। ফ্রিম্পংয়ের আরেকটি ক্রস থেকে লুইস কৌমাস দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন।

​তবে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে লিভারপুল হাই-লাইন ডিফেন্স ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং প্রেসিংয়ের তীব্রতা কমিয়ে দেয়। এলএএসকে এই সুযোগটি দ্রুত কাজে লাগায়। ইভান দিব্যাঙ্গোর বাঁ-দিক থেকে বাড়ানো ক্রস ও লং বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ফ্লোরিয়ান ফ্লেকার ও লুবিসিচ পর পর তিনটি গোল শোধ করে অলরেডসদের ডিফেন্সিভ দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেন।

সংগঠিত আক্রমণ, উইংয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও ধারালো ফিনিশিংয়ের কারণে লিভারপুলের জয় সহজ হলেও, ম্যাচের শেষভাগের রক্ষণাত্মক শিথিলতা নিশ্চিতভাবেই কোচকে ভাবাবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link