যে মাদ্রিদের অপেক্ষায় ছিল গোটা ফুটবল বিশ্ব

এই তো সেই রিয়াল মাদ্রিদ, যারা 'কামব্যাক' শব্দটাকে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সমার্থক বানিয়ে রেখেছে। যে রিয়ালের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে ফেলা নিয়মে পরিণত হয়েছিল, ফুটবল বিশ্বের ভক্ত-সমর্থকরা হয়তো দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রিদকেই মিস করছিল।

ঘড়ির কাটায় ৮৩তম মিনিট। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ৩-১। ঘরের মাঠে রোমার দর্শকরা তখন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সামনে তখন হারের কালো মেঘ। অথচ ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন গিয়ে দাঁড়ালো ৩-৪ এ! মাত্র সাত মিনিটেই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য রূপকথা।

​এই তো সেই রিয়াল মাদ্রিদ, যারা ‘কামব্যাক’ শব্দটাকে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সমার্থক বানিয়ে রেখেছে। যে রিয়ালের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে ফেলা নিয়মে পরিণত হয়েছিল, ফুটবল বিশ্বের ভক্ত-সমর্থকরা হয়তো দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রিদকেই মিস করছিল।

​কিছুদিন আগের ঘটনা। লা লিগায় মাদ্রিদ ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়ালের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিজয়ের সেই চেনা তাড়না দেখা যায়নি। ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার সেই ছবি দেখে অভ্যস্ত ছিলেন না কোনো ফুটবলপ্রেমীই। হতাশায় ডুবে থাকা সমর্থকদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল – লস ব্লাঙ্কোসদের রক্তে মিশে থাকা সেই ঘুরে দাঁড়ানোর ডিএনএ কি তবে হারিয়ে গেল?

কিন্তু ইউরোপ সেরার মঞ্চ চ্যাম্পিয়নস লিগ আসতেই যেন সব রূপ বদলে গেল। অলিম্পিকোতে যখন মনে হচ্ছিল অলৌকিক কিছু আর ঘটার উপায় নেই, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলো হোসে মরিনহোর শিষ্যরা।

​৮৩ মিনিটে কার্লোস এস্পির গোল, ৮৫ মিনিটে তরুণ তুর্কি এন্ড্রিকের সমতা সূচক গোল এবং নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে আন্টোনিও রুডিগারের জয়সূচক গোল। মাত্র সাত মিনিটের ঝড়ে রোমার ডিফেন্স লাইনকে তছনছ করে দিল রিয়াল। ৮৩ মিনিটের ৩-১ ব্যবধান বদলে ৯০ মিনিটে গিয়ে দাঁড়ালো ৩-৪ এ।

এই অবিশ্বাস্য কামব্যাক শুধু রোমার হাত থেকে ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়াই নয়, বরং পুরো বিশ্বকে আরও একবার মনে করিয়ে দিল – শেষ বাঁশি বাজার আগে রিয়াল মাদ্রিদকে কখনো মৃত ভাবতে নেই! হারিয়ে যাওয়া সেই অপ্রতিরোধ্য তেজ আর অদম্য মানসিকতা বুকে নিয়েই ফের রাজকীয় বেশে ফিরে এলো ইউরোপের রাজা রিয়াল মাদ্রিদ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link