ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভারতীয় বিস্ময়বালক বৈভব সুরিয়াভানশির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে বৈভব যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের নাম খোদাই করছেন, তার পেছনে রয়েছে এক কঠোর পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী মানসিকতা। তবে এই বিশাল অর্জনের আড়ালেও তিনি যেন এক সহজ-সরল কিশোর।
বৈভবের এই উত্থান তাঁর নিজ রাজ্য বিহারের স্থানীয় ক্রিকেট সংস্কৃতিকেই সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। কোভিডের পরবর্তী সময়ে লকডাউন শিথিল হতেই তাঁর শৈশবের কোচ মনীষ কুমার ওঝা মাঠের পাশেই একটি স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান খুলতে বাধ্য হন।
কারণ, বৈভবের অভাবনীয় সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চার থেকে সাত বছর বয়সী অন্তত ষাটজন খুদে শিশু সেখানে প্রতিদিন নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে ভিড় জমাচ্ছে। ছোটদের এই বাঁধভাঙা জোয়ার সামলাতে কোচকে বাধ্য হয়ে একটি বিশেষ ব্যাচ চালু করতে হয়েছে।

এত সাফল্য ও কড়া শৃঙ্খলার মাঝেও তিনি যে পুরোপুরি কৈশোর পেরোননি, তার প্রমাণ মেলে ড্রেসিংরুমের নানান চঞ্চলতায়। কঠোর ডায়েট ও নিয়মের বেড়াজালে মিষ্টি খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও, মিষ্টির প্রতি তাঁর তীব্র দুর্বলতা সামলানো কঠিন ছিল।
বয়সভিত্তিক ও বিহারের প্রথম রঞ্জি ট্রফির কোচ অশোক কুমার এবং তাঁর রুমমেট মুশীর খানের মাধ্যমে সেই মজার তথ্যটি সামনে আসে। কোচের কাছে একটি মাত্র মিষ্টি খাওয়ার জন্য কাচুমাচু মুখে অনুমতি চাওয়ার ভান করলেও, রুমমেট মুশীরের ফাঁস করা আসল সত্য থেকে জানা যায় যে কোচের অনুমতি মেলার আগেই অত্যন্ত চতুরতার সাথে গোপনে সাত-আটটি মিষ্টি সাবাড় করে ফেলতেন এই তরুণ।
কোচ অশোক কুমারও ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ও মাঠে নামলেই পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তবে ড্রেসিংরুমে ফিরলেই আবার সেই চঞ্চল ছোট্ট ছেলেটা হয়ে যায়।’

২২ গজে বোলারদের জন্য চরম আতঙ্ক হয়ে নিজ এলাকায় ক্রিকেট বিপ্লব ঘটানো আর ড্রেসিংরুমে মিষ্টির জন্য এমন মজার লুকোচুরি। এই দুইয়ের চমৎকার মিশ্রণেই এগিয়ে চলেছেন বৈভব সুরিয়াভানশি। রেকর্ডের পাহাড় টপকে বিশ্ব ক্রিকেটের আলো কেড়ে নেওয়া এই তরুণই আগামী দিনের ক্রিকেটের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বৈচিত্র্যময় ভবিষ্যৎ।











