তীরহারা ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য সবটুকু উজাড় করে দিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। ভেঙেচুরে যাওয়া জিম্বাবুয়ের জাহাজ জোড়াতালি দিয়ে চলার উপযুক্ত করার প্রয়াস কেবলই। ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ৪০ পেরোনো এক বুড়ো ঘোড়ার তেলেসমাতির সামনে কিছু সময়ের জন্য অসহায় হলো বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ।
২৪ রানে তিন উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের সামনে তখন শুধুই স্কোরবোর্ডে সম্মানজনক একটা কিছু দাঁড় করানোর লড়াই। তাসকিন আহমেদের ঝড় সামলে মান বাঁচাতে পারলেই হয়। তবে অভিজ্ঞতার ঝুলি কাঁধে যে মানুষটা দাঁড়ালেন, তিনি সেসব চাইলেন না। তিনি মেরামত করে পাকাপাকিভাবে টিকে থাকার বন্দোবস্ত করলেন।
ব্রেন্ডন টেইলর ক্যারিয়ারে কতবারই তো দুঃসময়ে হাল ধরেছেন। প্রতিপক্ষের ছোড়া বল্লমকে রুখে দিয়েছেন ঢাল হয়ে। আরও একবার সেই কাজটাই করলেন।

ঠান্ডা মাথায় ইনিংসটাকে গড়লেন। সহজ মন্ত্র, একবার দাঁড়িয়ে গেলে সব হবে। মারার বলে ঠিকই বাউন্ডারি আদায় করছেন, আবার এক-দুই করে রানের চাকাটা সচল রেখেছেন। টিপিক্যাল টেইলর ক্ল্যাসিক।
ফিফটি পেরিয়েছেন। সেই সঙ্গে ইতিহাসও সৃষ্টি করেছেন। জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ইতিহাসে রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার শীর্ষে তিনি। অবসর ভেঙে ফেরার পর টেস্ট প্লেয়িং নেশনসের বিপক্ষে প্রথম ফিফটির দেখাও পেলেন।
অবশ্য এই ফিফটি সেঞ্চুরিতে রূপ নিতেই পারত। যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, শতকটাই যেন তাঁর পিছু পিছু হাঁটছিল। তবে সাইফ হাসানের শিকার হয়ে থামতে হলো ৮১ রানেই।

১৯ রান দূরে সেঞ্চুরি থেকে। একটা আক্ষেপ থেকেই যায়। তবে যা করে গেছেন, তা এক কথায় বর্ণনা করা কষ্টসাধ্য। যেভাবে ভেঙেচুরে যাওয়া তরীকে জোড়াতালি দিয়ে তীরে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা অসামান্য।










