শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাবর আজম যখন ক্রিজে এলেন, পাকিস্তানের অবস্থা তখন একদমই ভালো না। সাইম আইয়ুব আট বলে ৭ করে ফিরে গেছেন, একটু পরে ফখর জামানও আউট। দলের দরকার ছিল এমন একজন, যে অভিজ্ঞতা দিয়ে ইনিংসটা ধরে রাখবে আর স্কোরটাকে একটা লড়াই করার জায়গায় নিয়ে যাবে। বাবর শুরুটা সেভাবেই করলেন। প্রথম কয়েকটা বল দেখে খেললেন, উইকেটটা বুঝে নিলেন, তাড়াহুড়ো করলেন না। শুরুর দিকে রান আসছিল খুব ধীরে, কিন্তু সেটা বাবরের পরিকল্পনারই অংশ মনে হচ্ছিল।
ধীরে ধীরে তিনি টিকেও গেলেন। ৪০ পেরোনোর পর মনে হচ্ছিল, এবার বড় ইনিংসটা আসছে। এখান থেকেই তো বাবরের ইনিংস বড় হতো। কিন্তু ইশান মালিঙ্গার একটা শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে বল ঠিকমতো ব্যাটে এল না, মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ। ৫৭ বলে ৪৫ রান করে ফিরলেন, ফিফটি আর হলো না। দেখে মনে হলো, কিছুই আগে থেকে ঠিক করা ছিল না, শুধু অসময়ে একটা শট খেলে ফেলা।
একসময় বাবর ঠিক এই কারণেই আলাদা ছিলেন। একবার সেট হয়ে গেলে তাঁকে আউট করা সহজ ছিল না, আর সেই ইনিংস ফিফটি বা সেঞ্চুরিতে গিয়ে থামত। বোলাররা জানতেন, শুরুতেই তাঁকে ফেরাতে না পারলে পরে আর সুযোগ মিলবে না। এখন গল্পটা প্রায় উল্টো। সেট হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সেট হওয়াটা আর বড় ইনিংসের গ্যারান্টি নেই। সেই সোনালী সময়টা এখন শুধুই অতীত।

বিরাট কোহলির খারাপ সময়ে এই বাবরই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই সময় একদিন চলে যাবে। কোহলির বেলায় সত্যিই চলে গেছে। রাজার মতো ফিরে এসে এখন একের পর এক ইনিংস খেলছেন। অথচ যিনি অন্যকে ভরসা দিয়েছিলেন, নিজের বেলায় সেই দিনটা এখনো আসছে না।
বাবরের ব্যাটিংয়ে মরচে ধরেছে, এটা বলা কঠিন। টাইমিং আছে, শট বাছাইয়ের চোখ আছে, ক্রিজে টিকে থাকার ধৈর্যও আছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? হয়তো কৌশলের চেয়ে বেশি মাথার ভেতরে। বড় রান করতেই হবে, এই চাপ যখন ব্যাটারের মাথায় চেপে বসে, তখন ছোট ভুলগুলোই বড় হয়ে ওঠে। তবে একটা বড় ইনিংসই এই চাপ ভেঙে দিতে পারে। ফর্ম হারানো প্রায় সব বড় খেলোয়াড়ের ফেরার গল্পের শুরুতেই এমন একটা ইনিংস থাকে। বাবরের সেই ইনিংসটা কবে আসবে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।











