শেষটা কি আরও নাটকীয় হতে পারত? ম্যাচের ৪৮ তম ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট, হ্যাটট্রিকের হাতছানি। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসল পাকিস্তান। মিডউইকেট দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠালেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। আর তাতেই তিন উইকেটের জয় নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বোচ্চ লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের যৌথ রেকর্ডও গড়ে ফেলল।
পাকিস্তানের বাবর আজম আছেন, আছেন সালমান আলী আঘা, একসময় ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও। অথচ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপার লড়াই, স্নায়ুচাপের এমন মাহেন্দ্রক্ষণে বারবার আবির্ভূত হয়েছেন একজনই। তিনি ফখর জামান।

বড় মঞ্চে ব্যাট হাতে জবাব দেওয়ার সহজাত প্রবণতা যেন তাঁর রক্তেই মিশে আছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালেও সেই ব্যতিক্রমী সামর্থ্যের আরেকটি দৃষ্টান্ত রাখলেন এই ব্যাটার!
শুরুতেই মাত্র ১৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন বিপাকে, তখন একপ্রান্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন ফখর। সাদ বেগকে নিয়ে গড়লেন ১৪৯ রানের জুটি।
এরপর নিজের ব্যাটেই শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণকে সামলালেন দারুণ দক্ষতায়। ৯৯ বলে ১২৭ রান! ১১টি চার, ছয়টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ১২৮.২৮।

ফখর জামানের এমন ইনিংস অবশ্য নতুন নয়। ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে ওয়ানডেতে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯৩, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮০ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৭। বড় লক্ষ্য তাড়ায় ফখর যে কতটা ভয়ংকর, পরিসংখ্যানই তার সাক্ষী।
পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় ১২টি শতক নিয়ে চতুর্থ স্থানে ফখর। আর টুর্নামেন্টের ফাইনালে একাধিক সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানি ব্যাটারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন সাঈদ আনোয়ারের পাশে। ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ১১৪, এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৭।
ফাইনালে রান তাড়া করে পাকিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি করার তালিকাতেও যুক্ত হলো তাঁর নাম। ১৯৮৬ সালে জাভেদ মিয়াঁদাদের ১১৬ রানের পর এবার ফখরের ১২৭। ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে রান তাড়া করতে নেমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

ফখর ফিরেছেন দলের ২২০ রানের মাথায়। এরপর অবশ্য কিছুটা কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে পাকিস্তানকে। সালমান আলী আঘা পারেননি দায়িত্ব নিতে।
তবে হাসান নেওয়াজ ও আরাফাত মিনহাজের জুটি আবারও ম্যাচে ফেরায় স্বাগতিকদের। শেষ অবধি শাহীনের ছক্কায় ঘরেই রইল পাকিস্তানের ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা!











