অপেক্ষার প্রহর ফুরাল পাকিস্তানের। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়, এরপর থেকে কেটে গেছে কতগুলো বছর। বিশ্বকাপ এসেছে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এসেছে, এশিয়া কাপের মঞ্চ বসেছে, কিন্তু পাকিস্তানের হাতে ওঠেনি কোনো বহুজাতিক ওয়ানডে শিরোপা। অবশেষে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর শিরোপা জিতে সেই খরাটাই কাটাল। তবে কি ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য আগামবার্তা দিয়ে রাখল শাহীন শাহ আফ্রিদির দল, বিশ্বকাপের খরাটাও কি কাটাতে পারবে তারা?
এই টুর্নামেন্টে নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করেছে পাকিস্তান। সাফল্যটাও তাই ধরা দিয়েছে। সেই জায়গাগুলো কী, কেনই বা পাকিস্তান ২০২৭ বিশ্বকাপের দাবিদার হয়ে উঠল এই টুর্নামেন্ট দিয়েই?
প্রথমত পাকিস্তান আবিষ্কার করেছে সাদ বেগকে। মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় যার অভিষেক হয়েছে এই টুর্নামেন্টেই। চার নম্বরে পাকিস্তানের এমন কাউকে দরকার ছিল, যিনি দ্রুত রান তুলতে পারবেন এবং বড় রান করার সামর্থ্য তাঁর আছে। রিজওয়ানের ধীরগতির ব্যাটিং এতদিন ধরে দলকে কোনো সুবিধা এনে দিতে পারেনি, সাদ বেগ সেটাই করতে পেরেছেন। ফাইনালে ৭৫ বলে ৭৪ রানের ইনিংস এসেছে। পাঁচ ম্যাচে প্রায় ৩৮ গড়ে রান করেছেন ১৮৫। প্রতিটা দিনই ভালো শুরু করেছেন, ফিফটির পাশাপাশি তিনটা ৩০ পেরোনো ইনিংস তাঁরই প্রমাণ।

দ্বিতীয়ত শাহীন শাহ আফ্রিদির হারানো ফর্ম ফিরে পাওয়া। বোলিং আক্রমণের সবটাই তাঁর ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে শুরুতেই প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নেওয়ায় তাঁর প্রধান কাজ। তবে গেল দুই বছরে সেই জিনিসটাই করতে পারছিলেন না শাহীন। ফলাফল, দলও ডুবছিল বারবার।
শাহীন যদি শুরুতেই দুটো উইকেট তুলে ফেলতে পারেন, তবে মিডল ওভারে বোলাররা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারবেন। আর শুরুতে উইকেট পেয়ে গেলে প্রতিপক্ষকে ইনিংস গড়তে সময় নিতে হয়। ফলাফল, দিন শেষে ৪০-৫০ রান কম তুলতে পারে প্রতিপক্ষ।
সবশেষে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কমফোর্ট জোন ফখর জামান। বিশেষ করে বড় ইভেন্টে। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালেও নায়ক ছিলেন ফখর, ২০২৩ বিশ্বকাপে একার কাঁধে টেনেছেন পাকিস্তানকে। ২০২৬-এ এসেও আরও এক ট্রফি জয়ের নায়কও সেই ফখর। ২০২৭ বিশ্বকাপে তিনি যে ট্রাম্পকার্ড হবেন, তা বলাই বাহুল্য।

এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার যেমন কিছুটা শক্ত ভিত পেয়েছে, তেমনই বোলিংয়ে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সমস্যার সমাধান একেবারে হয়নি। বাবর আজম ফর্মে নেই। আর ফখরের ওপেনিং পার্টনারের অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে বোলিংয়ে আরও একজন স্ট্রাইক বোলার দরকার পাকিস্তান শিবিরে।
বাবর যেকোনো দিন ফর্মে ফিরতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডেলিভার করতে পারেন ভালো কিছু। নামটা যেহেতু বড়, তাই চিন্তাটা তাঁকে নিয়ে নেই। তবে বাকি দুই জায়গার সমাধান পেয়ে গেলে পাকিস্তান বিশ্বকাপেরই বড় দাবিদার হয়ে উঠবে।










