ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজের স্টিং অপারেশনের পর রীতিমত উত্তপ্ত ভারতের ক্রিকেট পাড়া। একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে এই অপারেশন থেকে। সেই স্টিং অপারেশনে ভারতের প্রধান নির্বাচক চেতন শর্মা দাবি করেছেন, ভারতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারই ১০০ ভাগ ফিট হবার জন্য নিষিদ্ধ ইনজেকশন নেন।
ফিটনেস ইস্যু ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত ইস্যু গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৪০ কোটি মানুষের দেশে পারফর্মারের অভাব নেই ভারতে। জাতীয় দলে জায়গা পেতে তাই ফিটনেস নিয়ে রয়েছে বেশ কড়াকড়ি। অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করার সময় বিরাট কোহলিও খুব কঠোর ছিলেন ফিটনেস ইস্যুতে।
কোহলি নিজেও ক্রিকেটে ফিটনেস বিষয়টাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে সারা বছর ব্যস্ত সূচীর পাশাপাশি ভারতের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি হিসেবে রয়েছে প্রায় দুই মাস দীর্ঘ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)।
সেই ফিটনেস ধরে রাখতে ভারতীয় ক্রিকেটাররা এমন উপায় অবলম্বন করেন তা বোধহয় এর আগে আঁচ করতে পারেনি কেউ। কিন্তু চেতন শর্মা নিজেই ফাটালেন সেই বোমা। জানালেন, ফিট হবার জন্য নিষিদ্ধ ইনজেকশন নেন ভারতের ক্রিকেটাররা। ৮০ শতাংশ ফিট থাকলেও ইঞ্জেকশন নিয়ে ১০০ ভাগ ফিট হয়ে যান তাঁরা।
তিনি বলেন, ‘এই ইনজেকশন গুলোতে রয়েছে নিষিদ্ধ ড্রাগ। এগুলা পেইনকিলার নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ডোপ টেস্টেও ধরা পড়ে না সেই ড্রাগ।’ খুব স্বাভাবিক ভাবেই চেতন শর্মার এই বক্তব্য রীতিমত বোমা ফাটিয়েছে পুরো বিশ্ব ক্রিকেটেই।
স্টিং অপারেশনে চেতন শর্মা আরো জানান, ভারতে খারাপ পারফর্ম করা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার স্কোয়াডে থাকার জন্য এমন ইনজেকশন ব্যবহার করেছেন। এমনকি পেসার জাসপ্রতি বুমরাহও পুরোপুরি ফিট না হয়েও এই ইনজেকশন এর সাহায্য নিয়ে খেলেছিলেন।
জি নিউজের এক্সক্লুসিভ সেই ভিডিওতে চেতন শর্মা বলেন, ‘এক জন ক্রিকেটারের উপর প্রতি মুহূর্তে নজরে রাখা সম্ভব নয়। তাই কে ইনজেকশন নিচ্ছে তা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। দেশের অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যেই এই রকম প্রবণতা তৈরি হয়েছে। প্রথম সারির অনেক ক্রিকেটারও পুরো ফিট হতে ইনজেকশন নিয়ে খেলছে। এই ধরনের ইনজেকশনে ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ার ভয় থাকে না।’