লাহোর কালান্দার্স সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নিজেদের পুরনো সেনানীকে। প্রায় বছর সাতেক আগে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে গিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এই লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতেই সেবার পিএসএল পদযাত্রা শুরু হয়েছিল মুস্তাফিজের। এরপর দীর্ঘ একটা বিরতি কাটিয়ে, আবার পিএসএল খেলতে চলেছেন মুস্তাফিজ।
২০১৮ সালে লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন মুস্তাফিজ। সব মিলিয়ে মোট পাঁচ ম্যাচ খেলেছিলেন ফিজ। একেবারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি সেই অর্থে আলো ছড়াতে পারেননি। পাঁচটি ম্যাচ খেললেও, উইকেট শিকার করতে পেরেছিলেন মোটে চারটি। মুস্তাফিজের সামর্থ্যের একেবারে বিপরীতমুখী পারফরমেন্স।
যদিও সেই আসরে কৃপণতার নিদর্শন রাখতে ভুল করেননি মুস্তাফিজ। স্রেফ ৬.৪৩ ইকোনমিতে তিনি রান বিলিয়েছিলেন। সেসময় অবশ্য মুস্তাফিজ যাচ্ছিলেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। বা-কাঁধের একটা ইনজুরি মুস্তাফিজের সক্ষমতায় ব্যঘাত ঘটিয়েছিল ব্যাপক। সেই পরিস্থিতিতে তার ক্যারিয়ারের সীমারেখা দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই।

কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে মুস্তাফিজুর নিজেকে সামলে নিয়েছেন। দুর্ধর্ষ হয়ে আবার বিচরণ করতে শুরু করেছেন। যার ফলশ্রুতিতেই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক বাগিয়ে নিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
তবে ভারতের উগ্রবাদী সংগঠনের হুমকির মুখে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় ফ্রাঞ্চাইজিটি। এরপরই মূলত মুস্তাফিজের পিএসএল খেলার সম্ভাবনা প্রবল হয়। তিনি যে দল পাবেন, সেটা ছিল প্রায় নিশ্চিত। অবশেষে নিলামের আগেই তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলের নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স।
ছয় কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপির বিনিময়ে মুস্তাফিজকে নিজেদের করে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। পুরনো দিনের স্মৃতি ভুলে এবারের পিএসএলকে নিজের আপন রঙে রাঙিয়ে দিতে নিশ্চয়ই চাইবেন মুস্তাফিজ। কেননা তার জন্যই তো ক্রিকেটে গেঁথে যাওয়া মোড়লদের বন্দোবস্ত প্রবল ধাক্কার স্বীকার হয়েছে। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু নিঙড়ে দেওয়ার জেদ নিয়েই তিনি পা রাখবেন পাকিস্তানে।












