স্পিনের চিরাচরিত বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন গতির গর্জন। আর এই নিভৃত পেস বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। যাঁর জহুরির চোখ ও হাত ধরেই বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে এক নতুন গতিদানব – নাহিদ রানা।
নাহিদের আবিষ্কারের গল্পটা বেশ রোমাঞ্চকর। উইজডেনের ‘দ্যা স্কুপ’ পডকাস্টে এসে ডোনাল্ড শোনালেন সেই নেপথ্য কাহিনী। চট্টগ্রামে আয়োজিত এক আড়াই দিনের প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পে প্রথমবার রানাকে দেখেন তিনি।
প্রথম দর্শনেই রানার গতি দেখে ডোনাল্ড এতটাই রোমাঞ্চ বোধ করেন যে, তৎকালীন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে ডেকে বলেন, ‘এই ছেলেটাকে যেকোনো উপায়ে হোক সুযোগ দাও। ও পুরোপুরি কাঁচা, কিন্তু ওর গতি অবিশ্বাস্য!’ ডোনাল্ডের সেই বাজি আজ শতভাগ সফল। রানা এখন তিন ফরম্যাটেই জাতীয় দলের ভরসা।

সাবেক এই প্রোটিয়া গ্রেট নাহিদের মাঝে ইংল্যান্ডের সাবেক গতি তারকা স্টিভেন হার্মিসনের ছায়া খুঁজে পান। হার্মিসন যেমন তাঁর সোনালী সময়ে বিশাল দেহ নিয়ে রিদমের জোরে বল বাতাসে ভাসাতেন, রানার ছন্দটাও ঠিক তেমনই। ব্যাক-ফুট ও ফ্রন্ট-ফুট স্ট্রাইকের দারুণ ভারসাম্য এবং শরীর বাঁকিয়ে হিপ রিলিজ করার সহজাত ক্ষমতাই রানাকে এত বিধ্বংসী করে তুলেছে।
গতিশীল বোলারদের সামলানো মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কঠিন। শুরুর দিকে তারা কিছুটা এলোমেলো থাকেন এবং রান খরচ করেন। ডোনাল্ডের পরামর্শ হলো – এই তরুণদের ওপর অতিরিক্ত ভুলত্রুটি চাপানো বা শুরুতেই সুনির্দিষ্ট লাইন-লেন্থের ফ্রেমে বেঁধে ফেলা ঠিক নয়।
ব্যক্তিগত দক্ষতার চেয়েও বাংলাদেশ পেস বোলিংয়ে ডোনাল্ডের বড় অবদান হলো তাদের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন। একসময় বাংলাদেশের পেসারদের বড় মঞ্চে অনেকটা গড়পড়তা ভাবা হতো। ডোনাল্ড পেসারদের মাঝে ঢুকিয়ে দেন এক দলবদ্ধ আক্রমণাত্মক মানসিকতা।

আজ তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের সাথে রানা-হাসান মাহমুদরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলছেন। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর ডোনাল্ড কোচের পদ থেকে বিদায় নিলেও বাংলাদেশের পেসারদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ফুরায়নি। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তিনি এখনো দূরবর্তী পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত আছেন। মাঝেমধ্যেই ভিডিও কলে খোঁজ নেন তাসকিন-রানাদের ফর্ম ও স্বাস্থ্যের।











