ভাবুন তো, শৈশবে যে আইডলের সাথে একটি ছবির জন্য ব্যাকুল ছিলেন আপনি, আজ তার বিরুদ্ধেই লড়ছেন বিশ্বজয়ের মঞ্চে! ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল যেন সেই রূপকথারই এক জীবন্ত চিত্রনাট্য কিছু স্প্যানিশ ফুটবলারদের জন্য।
মেসির কোলে শিশু লামিন ইয়ামালের ভাইরাল ছবির কথা এখন সবার মুখে মুখে। ২০০৭ সালের এক চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের সেই ফ্রেম যেন ভাগ্যের এক অবিশ্বাস্য সমাপতন। তবে এই মহাকাব্যে ইয়ামাল একা নন। আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে স্প্যানিশ শিবিরে এমন আরও তিনজন আছেন, যাদের শৈশবের রঙিন স্মৃতিতে মিশে আছেন খোদ আর্জেন্টাইন তারকা।
তালিকার শুরুতেই আছেন মাঝমাঠের মধ্যমণি পাবলো গাভি। বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমি তখন মেসির জাদুতে মত্ত। সেখানেই বড় হওয়া গাভির বেশ কিছু পুরনো ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যে কিশোর একসময় মেসির ছায়া মাড়িয়ে বড় হয়েছে, এখন সেই আইডলকেই মাঠের লড়াইয়ে রুখে দিতে প্রস্তুত সে।

এরপরের নামটি দানি ওলমো। বার্সেলোনার সেই সোনালি জমানায় ওলমোও ছিলেন মেসির অগণিত ভক্তদের একজন। শৈশবের সেই প্রিয় রোলমডেলকে অনুকরণ করেই এখন তিনি স্পেনের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। রবিবার নিউ জার্সিতে স্বয়ং মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় তিনি।
তালিকার অপর ব্যক্তি লা রোহা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। তার শৈশবের ফ্রেমটিও মেসির উপস্থিতিতে ভাস্বর। সেই সময়ে হয়তো ছবিটির গুরুত্ব ছিল সামান্য। কিন্তু ফাইনালে স্পেন-আর্জেন্টিনা মহারণের প্রেক্ষাপটে তা পেয়েছে নতুন মাত্রা।
ফুটবলে সময় বদলায়। সতীর্থ বদলায়, হয়তো বদলায় আইডলও। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মেসির এই সাবেক খুদে স্প্যানিশ ভক্তরা হয়ে উঠেছেন তারই শিরোপার প্রতিদ্বন্দ্বী। শৈশবের সেই আবেগ একপাশে সরিয়ে রেখে মেটলাইফের সবুজ ঘাসে তারা কি পারবেন প্রিয় আইডলকে হারিয়ে নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই রোমাঞ্চেরই অপেক্ষায়।











