বিশ্বকাপের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে একটা প্রীতি ম্যাচ আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য রেখে গেছে বেশ কিছু প্রশ্ন। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবুও তাতে কি সন্তুষ্ট হওয়ার উপায় আছে?
এটাই প্রথম প্রশ্ন। ফিফা র্যাংকিংয়ে দুই দলের পার্থক্য ১১২ ধাপের। আফ্রিকার দলটির ফিফা র্যাংকিং ১১৫। এমন একটা দলের বিপক্ষে পার্থক্য স্রেফ কাগজে-কলমে নয়, মাঠের পারফরমেন্সেও থাকার কথা ছিল। তাদেরকে বিশাল ব্যবধানে গুড়িয়ে দেওয়ার কথা আর্জেন্টিনার। কিন্তু তেমন কিছু ঘটতে দেখা যায়নি। উল্টো ম্যাচের অন্তিম লগ্নে একটি গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, এমনকি আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপার অন্যতম দাবিদার দলের জন্য এই স্কোরলাইন মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ভুলত্রুটি আর কৌশলের ফাক-ফোকড় দ্রুত ভরাট করতে হবে স্কালোনিকে। দ্বিতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে নিকো পাজকে ঘিরে। তরুণ তুর্কি পাজ দূর্দান্ত গোল করেছেন ফ্রি-কিক থেকে।

এখনও আর্জেন্টিনা দলে সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। তিনি ম্যাচ উইনার, যখন সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখনও মেসির জাদুতে খুলে যায় জয়ের দুয়ার। কিন্তু বুড়িয়ে যাওয়া মেসির কাছ থেকে সবসময় সার্ভিস মিলবে- এমনটা ভাবাও তো নেহায়েত বোকামি। সেদিক থেকে নতুন কোন ম্যাচ উইনার প্রয়োজন আলবিসেলেস্তাদের।
সে স্থান পূরণের জন্য নিকো পাজ হতে পারেন একজন আদর্শ বিকল্প। গোল স্কোরিং ক্ষমতার পাশাপাশি, চান্স ক্রিয়েশনেও তিনি সিদ্ধহস্ত। সেই সাথে রয়েছেন ফর্মে। তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে যুক্ত করা হবে কি-না, এমন প্রশ্ন উঠে থাকলেও সেটার উত্তর নিশ্চয়ই ইতোমধ্যে পেয়ে গেছেন লিওনেল স্কালোনি। নিজের ডায়েরিতে নিশ্চয়ই টুকে রেখেছেন নিকো পাজের নাম।
এখন স্রেফ দলের চূড়ান্ত রুপরেখা ও পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলার পালা। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে শুরু হওয়া ক্যাম্পে পরিকল্পনার বাস্তবায়নের পাশাপাশি, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দলের প্রতি প্রত্যাশা ঠিক কতটুকু তা ঠিকঠাক বোঝাতে পারলেই- আর্জেন্টিনা আবারও হয়ে উঠবে অপ্রতিরোধ্য।












