বাবর-আজম, পথের শেষে দুই গ্রেট

তাহলে কি শেষ হয়ে যাচ্ছে বাবর-রিজওয়ান অধ্যায়? নাকি তারা ফিরবেন আরও শক্তভাবে, সব সমালোচনার জবাব দিতে?

পাকিস্তান ক্রিকেটে তুমুল আলোড়ন, তবে কি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের শেষ দেখে ফেলেছেন বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান? চলমান এশিয়া কাপের স্কোয়াডে নেই পাকিস্তানের দুই তারকা ব্যাটার, এরপর থেকেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন। একসময় যারা পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের আস্থার প্রতীক ছিলেন, তারাই আজ নির্বাচকদের বিবেচনায় নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি সাদা বলের আন্তর্জাতিক ফরম্যাট থেকে অবসরের পথেই হাঁটছেন বাবর-রিজওয়ান?

হেড কোচ মাইক হেসনের মন্তব্য সেই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাবর-রিজওয়ান আপাতত তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নেই। এই ঘোষণার পর পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। পাকিস্তান অনেকদিন হল তাঁদের টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় রাখছে না, পাকিস্তান ভবিষ্যৎ সাজাচ্ছে তরুণদের নিয়ে।

বাবর আজম সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি খেলেছেন গত বছরের ডিসেম্বরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তার ব্যাট থেকেও এসেছে হতাশার তিনটি স্কোর—৪৭, ০ ও ৯। যদিও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) কিছু ঝলক দেখিয়েছিলেন, কিন্তু ধারাবাহিকতা ছিল না।

অন্যদিকে মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রায় পুরো ২০২৫ টি–টোয়েন্টি ক্যালেন্ডারই কাটিয়েছেন মাঠের বাইরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ ১৬ ও ০—যা আরও বড় হতাশার কারণ। একসময় পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ওপেনার ছিলেন তিনি, অথচ এখন সেই ব্যাট আর আগের ছন্দে ফিরছে না। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হওয়ার পরও তাঁর পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে।

এমন সময়ে উঠে এসেছেন সায়িম আয়ুব ও শাহিবজাদা ফারহান। নির্বাচকরা তাই ভবিষ্যতের দিকেই নজর দিয়েছেন। সামনে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—তার আগে নতুন রক্তে ভরসা রাখতে চাইছে পাকিস্তান।

তাহলে কি শেষ হয়ে যাচ্ছে বাবর-রিজওয়ান অধ্যায়? নাকি তারা ফিরবেন আরও শক্তভাবে, সব সমালোচনার জবাব দিতে? আপাতত পাকিস্তানি ক্রিকেট ভক্তরা তাকিয়ে আছেন এই দুই তারকার ভবিষ্যতের দিকে—যারা একসময় ছিলেন তাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের প্রতীক।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link