বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের ওপেনিং ভাবনা থেকে বাদ পড়েছেন লিটন দাস। কেননা ওপেনিং পজিশনের জন্যে এখন পরিকল্পনায় অন্য তিন নাম। তানজিদ হাসান তামিমের সাথে পারভেজ হোসেন ইমন ও বহুদিন বাদে দলে ফেরা নাঈম শেখ। তিন ওপেনার রয়েছে স্কোয়াডে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই তিনজন থেকে দুইজনের ঘাড়ে পড়বে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব।
লিটনকে দেখা যেতে পারে মিডল অর্ডারে। কিন্তু তিনজনের মধ্যে কোন দুইজন প্রাধান্য পাবে- সে নিয়ে রয়েছে একটা শঙ্কা। তানজিদ হাসান তামিমের জায়গাটা প্রায় নিশ্চিত। তার সঙ্গী হবেন কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মনোযোগের দৃষ্টি ছিল বাংলাদেশের অনুশীলনে। কলম্বোতে দুপুরের তপ্ত রোদে শরীর কাবু হওয়ার মত দশা।
এর মধ্যে জুটি বেঁধে অনুশীলন করলেন তামিম ও ইমন। এই দুইজনের নেটের পাশেই দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেছেন সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। প্রতিটি বলের পর ভুলচুক শুধরে দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই কোচ। তাতে অন্তত আন্দাজ করে নেওয়া যায় প্রথম ওয়ানডেতে তামিমের সঙ্গী হচ্ছেন ইমন।

যদিও এখন অবধি পারভেজ হোসেন ইমনের ওয়ানডে অভিষেক হয়নি। বাংলাদেশের জার্সিতে তিনি স্রেফ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ওয়ানডের অভিজ্ঞতা একেবারে নেই বললেই চলে। এমন একজনকে বাজিয়ে দেখার সুযোগ অন্তত হাতছাড়া করা উচিত নয়। ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ওপেনিং পজিশনটা তো সলিড করা চাই।
তামিম ইকবাল পরবর্তী যুগে বাংলাদেশের সাদা বলের ওপেনিং এক ধুম্রজালের নাম। কেউ আজ পর্যন্ত থিতু হতে পারেননি। আসা-যাওয়া আর জায়গা বদলের মিছিলে সৌম্য সরকার এক বিচিত্র চরিত্র। তবুও একটু সুদূর প্রসারী ভাবনা থেকে ইমনকে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দেওয়াই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে এক্ষেত্রে বদলে যাওয়া নাঈম শেখকে উপেক্ষা করা ভীষণ কঠিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাদা বলে নাঈম শেখ গত এক বছর ধরেই ভীষণ ধারাবাহিক। নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন এনেছেন ভীষণ। টেকনিক থেকে শুরু করে স্ট্রাইকরেট সবকিছুই আগের থেকে হয়েছে আরও বেশি উন্নত। ঠিক সে কারণেই ফের জাতীয় দলের দুয়ার খুলেছে তার জন্যে।

তার পূর্ব অভিজ্ঞতার বিচারে তিনি নিশ্চয়ই খানিকটা এগিয়ে থাকবেন ইমনের চাইতে। তবে প্রথম ওয়ানডেতে শেষ অবধি কে সুযোগ পাবেন, সেটা নিশ্চিত হবে ম্যাচের আগের দিন, অর্থাৎ প্রিভিউ ডে-তে। তবে অন্তত আভাস মিলছে ইমনের অভিষেকের। তবে আভাস কতটুকু বাস্তবে পরিণত হবে, তা হয়ত সময় গড়ালেই জানা যাবে।











