ক্রিকেট মাঠে কখনো কখনো একটা ওভারই যথেষ্ট হয়ে যায় পুরো ম্যাচের গল্প নতুন করে লেখার জন্য। ডারউইনের রাতের আলোয় ঠিক তেমনই একটা ওভার এনে দিল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দলকে এক নাটকীয় জয়। কিছুক্ষণ আগেও যে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হতে বসেছিল, সেখান থেকেই রাকিবুল হাসানের হাত ধরে ফিরে এল বাংলাদেশ— আর প্রমাণ হলো, ১৮২ রানের লক্ষ্যও কখনো কখনো নেহাত সংখ্যা নয়, বরং একটা লড়াইয়ের গল্প।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের। ইনিংসের তৃতীয় বলেই জিশান আলম শূন্য রানে ফিরলে চাপ বাড়ে। হাবিবুর রহমান সোহানের ২১ বলে ২৬ আর অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের দ্রুত বিদায়ের পর দলের রান তখন ৫১/৩। ঠিক এই জায়গা থেকেই ম্যাচের রং বদলে দেন আরিফুল ইসলাম। ৪৮ বলে সাতটি চার আর দুটি ছক্কায় সাজানো ৭১ রানের ইনিংসে তিনি গড়ে দেন ভিত, আর সেই ভিতের ওপর ছাদ তোলেন সাব্বির রহমান। মাত্র ৩৬ বলে ছয়টি চার আর দুই ছক্কায় অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে শেষ পাঁচ ওভারে তোলেন ৫৭ রান। বাংলাদেশ থামে ২০ ওভারে ১৮১/৫-এ।

জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ড এ শুরুটা করে ঝড়ের গতিতে। কাটেনে ক্লার্কের ১০ বলে ২৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস, তারপর ম্যাক্স চু আর ম্যাথু বয়েলের জুটিতে দল এগোতে থাকে রানের চাকা সচল রেখেই। ১২ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ১১৪ রান, হাতে আট উইকেট— ম্যাচ তখন পুরোপুরি নিউজিল্যান্ড এ-র নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ঠিক তখনই রাকিবুল হাসানের হাতে বল তুলে দেওয়াটাই হয়ে ওঠে ম্যাচের মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত। এক ওভারেই বেভন জেকবস আর ম্যাক্স চু— জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ভাঙেন প্রতিরোধ। এরপর একে একে মিচেল হে, আদিত্য অশোক ফিরলে ম্যাচ পুরোপুরি হাতবদল হয়ে যায়। রিপন মণ্ডলও তিন উইকেট নিয়ে চাপ ধরে রাখেন শেষ পর্যন্ত। শেষদিকে জশ ক্লার্কসনের ২২ বলে ২৫ রানের চেষ্টা যথেষ্ট হয়নি— নির্ধারিত ২০ ওভারে নিউজিল্যান্ড এ থামে ১৫৮/৮-এ।
২৩ রানের জয়ে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল ফিরল জয়ের ধারায়। আরিফুল-সাব্বিরের ব্যাটে গড়া সংগ্রহ যতটা না জয় এনে দিল, তার চেয়ে বেশি এনে দিল রাকিবুলের সেই এক ওভারের জোড়া আঘাত— যেখানে হাতের মুঠো থেকে প্রায় ফসকে যাওয়া ম্যাচ আবার নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ।
জয়ের এই ছন্দ কি ধরে রাখতে পারবে বাংলাদেশ এইচপি দল টুর্নামেন্টের বাকি পথে?











