আইপিএল নিলামে কি আগ্রহ জমাতে পারবেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা? প্রশ্ন থাকছেই, কখনওই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ঘিরে আগ্রহ দেখায় না আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তবে, এই অনাগ্রহের ভিড়েও আছে আশার আলো। নিলামে থাকা সাত বাংলাদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনকে নিয়ে উত্তেজনা টের পাওয়া যাচ্ছে।
প্রথমেই মুস্তাফিজুর রহমান, অভিজ্ঞতার আলোয় ‘ফিজ’ আবারও কি ঝড় তুলতে পারবেন নিলাম টেবিলে? আইপিএলে পরীক্ষিত, সফল ও শিরোপাজয়ী তিনি। তার ওপর বাঁহাতি পেস—যা এখনো আইপিএলের বাজারে বিরল সম্পদ। মুস্তাফিজুর রহমান এখন পর্যন্ত ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি ৭.৯১—যা প্রমাণ করে কেন তিনি আইপিএল কাঠামোতে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভারের কৌশলী কাটার, আর ডেথ ওভারে রিভার্স—সব মিলিয়ে ‘ফিজ’ অলরাউন্ড প্যাকেজ। এ কারণেই নতুন মৌসুমে বিদেশি পেসার খুঁজছে কলকাতা নাইট রাইডার্স, আর তাদের উইকেটের স্বভাবগত দ্বৈত আচরণ মুস্তাফিজের কাটারকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।

দিল্লী ক্যাপিটালসে গেল আসরে ছিলেন ‘বদলী’ হিসেবে, এবারও তাঁকে পুরো আসরের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজবে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিও। দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে আইএলটি-টোয়েন্টিতে তাঁর পারফম্যান্স আশার বীজ বুনছে।
বাংলাদেশের নতুন ‘লেগস্পিন’ সেনসেশন রিশাদ হোসেন আছেন চাহিদার তালিকায়। গুণগত মানের লেগস্পিনাররা বরাবরই আইপিএলে সফল হন। এই জায়গাতেই বাংলাদেশ পেয়েছে এক দুর্লভ প্রতিভা, রিশাদ হোসেনকে।
টানা ধারাবাহিকতায় তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নম্বর ওয়ান স্পিনার। ৫৫ ম্যাচে ৭১টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি উইকেট, ইকোনমি ৮.১২—সংখ্যাই তার গল্প বলে। উচ্চতা, বলের ফ্লাইট, ভ্যারিয়েশন আর সাহসী লাইন—এসব কারণে তিনি স্পিন-নির্ভর ফ্র্যাঞ্চাইজির চোখে পড়তে পারেন সহজেই।

স্পিনার সংকটে থাকা রাজস্থান রয়্যালস—যারা হাসারাঙ্গা ও থিকশানা দুজনকেই ছেড়ে দিয়েছে—তাদের তালিকায় রিশাদ থাকতে পারে সবচেয়ে উপরে। জয়পুরের বড় বাউন্ডারিতে রিশাদের লেগস্পিন হতে পারে নিখুঁত ম্যাচ-উইনার।
রিশাদ হোসেন এখন আছেন বিগ ব্যাশে, মাঠে নামবেন হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে। সেখানকার পারফরম্যান্স অনেকক্ষেত্রেই আইপিএল নিলামের ওপর প্রভাব রাখতে পারে।
নাহিদ রানার দিকেও নজর থাকতে পারে। ২২টি টি-টোয়েন্টিতে ১৮ উইকেট খুব সংখ্যা বড় নয়, কিন্তু তাঁর হয়ে কথা বলে তার গতি। আইপিএলও গতিশীল বোলারদের চায়। শোনা যাচ্ছে, নাহিদের জন্য লড়তে পারে কলকাতা নাইট রাইডার্স। হার্শিত রানার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি তৈরি করতে পারেন ভয়ঙ্কর পেসজুটি।

অপেক্ষা এখন ১৬ ডিসেম্বরের। মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা, রিশাদের স্পিন–ম্যাজিক, আর নাহিদ রানার গতির ঝড়, নিলামে কি পাবেন তাঁরা প্রত্যাশিত গন্তব্য? উত্তরের জন্য সময়ের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।










