ডারউইনে বাংলাদেশের টেল এন্ডারই হয়ে উঠল আসল মেরুদণ্ড!

বহুদিন ধরে যে অভিযোগ তাড়া করে ফিরত বাংলাদেশকে— নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা চাপের মুখে ভেঙে পড়েন, দ্রুত গুটিয়ে যায় ইনিংস— সেই অভিযোগেরই যেন জবাব দিল ডারউইনের এই বিকেল। মিরাজের নেতৃত্বে, তাসকিন-তাইজুল-হাসান মাহমুদের একাগ্রতায় বাংলাদেশের লেজটা এবার হয়ে উঠল আরেকটা মেরুদণ্ড।

৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন ড্রেসিংরুমে চাপা উৎকণ্ঠা, তখন অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা নিশ্চয়ই ভাবছিলেন কাজ শেষ প্রায়।

বহুবার এমনটাই হয়েছে— প্রতিপক্ষের টেল থেকেই এসেছে বিপদ, ছয়-সাত উইকেট ফেলে দেওয়ার পরও শেষরক্ষা হয়নি। কিন্তু ডারউইনের এই বিকেলে ঘটল ঠিক তার উল্টোটা।

হাসান মাহমুদ নেমে দাঁড়ালেন মেহেদী হাসান মিরাজের পাশে, আর শুরু হলো এক নীরব প্রতিরোধ। কেন্টের কাউন্টি ক্রিকেটে যে ধৈর্যের পাঠ নিয়েছিলেন, তারই প্রতিফলন দেখা গেল ব্যাটে— বল ছাড়লেন, রক্ষণ সামলালেন, আক্রমণাত্মক শট খেলার লোভ সামলে রাখলেন প্রতিটি মুহূর্তে। ৯২ বলে মাত্র ১৪ রান করলেও সময়ের হিসেবে সেটাই ছিল আসল অবদান— প্রায় ৭০ বল ধরে মিরাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে যোগ করলেন ৪৬ রান, হতাশ করে গেলেন হ্যাজেলউড-কামিন্সদের। শেষে হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন বটে, কিন্তু ততক্ষণে কাজের কাজটা হয়ে গেছে।

হাসান মাহমুদ ফিরলেন ১৪ রানে, তবে বার্তাটা ততক্ষণে পৌঁছে গেছে— এই টেল সহজে ভাঙার নয়। এরপর তাইজুল ইসলাম নেমে আরও ১৭ রান যোগ করলেন মিরাজের সঙ্গে, তারপর তাসকিন আহমেদ। মিরাজ-তাসকিন জুটি তো রীতিমতো অস্ট্রেলিয়ানদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিল— ৯৪ বলে ৪৬ রানের জুটি, যেখানে স্ট্রাইক বদলের কৌশলেই কুপোকাত হলো প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ। তাসকিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন ১৪ রানে, আর শেষে এবাদত হোসেনও তাসকিনের সঙ্গে যোগ করলেন আরও ৭ রান।

হিসেবটা মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায় লড়াইয়ের ব্যাপ্তি— ৩০৮ থেকে ৪২৬, অর্থাৎ শেষ চার উইকেটে যোগ হলো ১১৮ রান। প্রতিপক্ষের মাটিতে, প্রতিপক্ষেরই বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে এমন প্রতিরোধ বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিরল দৃশ্য।

বহুদিন ধরে যে অভিযোগ তাড়া করে ফিরত বাংলাদেশকে— নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা চাপের মুখে ভেঙে পড়েন, দ্রুত গুটিয়ে যায় ইনিংস— সেই অভিযোগেরই যেন জবাব দিল ডারউইনের এই বিকেল। মিরাজের নেতৃত্বে, তাসকিন-তাইজুল-হাসান মাহমুদের একাগ্রতায় বাংলাদেশের লেজটা এবার হয়ে উঠল আরেকটা মেরুদণ্ড।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link